আগামী বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দলকে লড়াইয়ে নামার ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপির ‘অলিখিত দুই নম্বর’ অমিত শাহ পশ্চিমঙ্গে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৫টি জেতার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্য সভাপতি লোকসভার সদস্য (এমপি) সুকান্ত মজুমদারের জন্য কাজটা বড্ড কঠিন।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমিত শাহ রাজ্য বিজেপিকে ২২টি আসন জয়ের লক্ষ্য দিলেও সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে পদ্মফুল। এটি ছিল বিজেপির ইতিহাসে রাজ্যের সবচেয়ে সেরা ফল। ২০২১ সালে রাজ্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন হটানোর রব তুলে শেষ পর্যন্ত ৭০ জনের মতো বিধায়ক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় দলটিকে। লোকসভাগুলোর অন্তর্গত বিধানগুলোর ফলে যেখানে এগিয়ে ছিল দল, ২০২১ সালে এসে তা ধরে রাখা যায়নি।
রাজ্য বিজেপিতে এখন তিনটি স্রোত। সুকান্ত মজুমদারের পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের অনুসারীরা এখন কোণঠাসা হলেও তাদের প্রভাবাধীন বলয় সক্রিয় রয়েছে। আবার এই দুই শিবিরের পাশাপাশি বিধানসভার বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের একটি বলয় রয়েছে। তৃণমূল থেকে যাওয়ার পর শুভেন্দুর পেছনে দল ভারী করছেন অনেক নেতাকর্মী।
রাজ্য সভাপতি সুকান্ত বালুরঘাটের এমপি। লোকসভার ফলে সাত বিধানসভার তিনটিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি এবং ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তা ধরে রাখে দলটি। খড়গপুরের এমপি দিলীপ ঘোষের লোকসভা আসনে সাতটির মধ্যে পাঁচটিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি, বিধানসভায় একমাত্র খড়গপুর সদরে হিরণ চট্টোপাধ্যায় ছাড়া কোনো বিধায়ককে জেতাতে পারেনি বিজেপি। হুগলির এমপি লকেট চট্টোপাধ্যায়ের লোকসভায় কোনো বিধানসভাতেই পদ্মফুলের বিধায়ক নেই। গত লোকসভা নির্বাচন বেশ হাঁকডাক দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ব্যারাকপুরের এমপি হন অর্জুন সিং। তার ছেলে পবন সিংও বিজেপির মনোনয়ন নিয়ে বিধায়ক হন। কিন্তু অর্জুন এখন তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। সেখানে কোনো বিধানসভায়ই ভালো অবস্থায় নেই বিজেপি।
তবে এসব নিয়ে বিচলিত নন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখে মানুষ ভোট দেবেন। কেন্দ্রের উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যের মন্ত্রী, তৃণমূল বিধায়ক, নেতারা জেলে।’