সবচেয়ে ভালো ব্যাংক খাতেরই এমন দুরবস্থা

আমরা এখন বড় অস্ত্র পেয়েছি, সেটা হলো রি-শিডিউল। অর্থাৎ রি-শিডিউল করে দিলে সব সমস্যার সমাধান। দুই বছর পর আবার যখন এ ঋণ নিয়ে সমস্যা হবে তখন নতুন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সঞ্চিতির যে মূল চাহিদা তা দিচ্ছে না। এটি না দেওয়ায় লভ্যাংশে প্রভাব পড়ছে।

ব্যাংককে শক্তিশালী করার যে সামর্থ্য দরকার তা হয়ে উঠছে না। অব্যবস্থাপনার ফলে আমাদের তারল্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সুশাসনের অভাবে থাকা ব্যাংকগুলো চিহ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের তারল্য সংকট দূর করতে টাকা দিয়ে দিচ্ছে। ৫০ হাজার কোটি টাকার ওপর তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তারল্য সহায়তা দিচ্ছেন, দরকার আছে। অর্থাৎ চাইলাম আর টাকা দিয়ে দিল। কী সুন্দর সমাধান! আমাদের ব্যাংকগুলো অর্থ চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো প্রশ্ন করে না। চাহিবামাত্র দিয়ে দিচ্ছে।

যেসব ব্যাংক নানা রকম অপকর্ম করে তারল্য সংকটে পড়ছে, তাদের কোনো জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। তারপরও বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে ভালো খাত হলো ব্যাংক খাত। সে খাতেরই যদি এ দুরবস্থা হয় তাহলে ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খাতের কী পরিণতি তা সহজেই অনুমান করা যায়। দরকারের সময় তো ইন্স্যুরেন্সের টাকা পাওয়া যায়ই না; এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে টাকার জন্য ঘুরতে হয়। অথচ আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের অর্থনীতির কী অবস্থা? তারা এগিয়েই যাচ্ছে। তাদের ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার। যেটা ভারতের মোট জিডিপির ১১৫ শতাংশ। আর আমাদের ২০ শতাংশ ছিল এখন আরও নিচে।

এগুলো সাধারণত মাপা হয় আর্থিক খাতের গভীরতা কত সেটার ওপর নির্ভর করে। এটা ভারতে এটি ৮২ শতাংশ, বাংলাদেশে ৪২ শতাংশ। আপনি ১৫ লাখ কোটি টাকা দিয়ে আর কতদূর যাবেন। পূর্ব এশিয়ায় এ হার ১২০ থেকে ১২৫ শতাংশ। এটা থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশে কেন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যাংক গড়ে ওঠে না। আর্থিক খাতের আকার জিডিপির আকার বিবেচনায় হওয়া উচিত। বাংলাদেশ তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি, সেটি দুঃখের বিষয়। দেশে এ খাতে অনেকগুলো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরকার এ খাত থেকে পর্যাপ্ত অর্থ তুলতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে, আমরা তা নিচ্ছি। আমরা ১০-১২ বিলিয়ন করে নিচ্ছি, তাতেও কি সরকারের সংকট মিটেছে? না মিটলে ব্যাংক খাত থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ আছে।