বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের মালিক হচ্ছেন অনেক উদ্যোক্তা। আমাদের দেশে যিনি ঋণ অনুমোদন দিচ্ছেন, তিনিই আবার আরেক ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যিনি খেলাপি হয়েছেন, তিনি আবার বেসরকারি ব্যাংকে যাচ্ছেন। এটা হওয়া উচিত না, পৃথিবীর অন্য দেশে এ সংস্কৃতি নেই। এটা একটা সাংঘর্ষিক অবস্থা। ব্যাংক খাতে এখন জগাখিচুড়ি অবস্থা চলছে। ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হয় না, সে কারণে তারা এসব অপকর্ম করেই চলেছে। এ অবস্থা বেশি দিন চললে দেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ সবাই মনে করছে বিচার যেহেতু নেই, বিচারহীনতার সুযোগ নিয়ে সবাই এসব অনিয়ম করছে।
দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। বেসরকারি সব ব্যাংক মিলে পরিচালনা পর্ষদে প্রায় ৬০০ জন মানুষ রয়েছেন। এরাই তো বাংলাদেশের সব লোন কনজিউম করার জন্য যথেষ্ট। একেকজনের পিঠ আরেকজনের চুলকানোর মতো তারা নিজেরাই এ ঋণ ভাগাভাগি করছেন। ফলে এ ব্যাংকিং সিস্টেম দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা কঠিন। অনেকে মনে করেন ব্যাংকের বিস্তৃতি বাড়লে মানুষের কাছে অর্থনীতির প্রসার হবে। এটার কোনো গবেষণা আছে?
পৃথিবীতে নানা রকম গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলেও বাংলাদেশে শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ে তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আপনি আমাকে চেনেন আর আমি আপনাকে চিনি, ব্যস এতটুকুতেই লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে এখানে। নীতিনির্ধারণের পর যখন বাস্তবায়নের দিকে আসেন, তখন ব্যাংক চালানোর মতো যোগ্য লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আপনার কথা শোনে এমন লোকই নিচ্ছেন। তাহলে বোর্ডে সিদ্ধান্ত নিতে আপনার সুবিধা হয়।
