ব্যবসায়ীদের অনৈতিক অনুশীলনই মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে বাধা

বাংলাদেশের মতো দেশে ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এটা অন্য দেশে সম্ভব হলেও এ দেশে কোনো দিনই সম্ভব নয়। কারণ ভারত শুধু ঘোষণা দিয়েছিল পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে, সেদিনই পণ্যটির দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসায়ীদের মানসিকতা অনৈতিক। ব্যবসায়ীদের অনৈতিক অনুশীলনই মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা।

আপনি যখন সুদের হার বাড়াচ্ছেন, এ টাকা নিয়ে যদি কোনো পণ্য কিনি তখন সে দামটা কি এর ওপর পড়বে না? মূল্যস্ফীতি কি তখন বাড়বে না কমবে? অর্থনীতিবিদরা বলেন, সুদের হার বাড়িয়ে দিলে মানুষ ঋণ নেবে কম। তাহলে আমি যদি ঋণ না নিই, মালামাল আমদানি না করি, তাহলে বাজারেও এর সংকট হবে, দাম দ্বিগুণ হবে; বরং এতে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হই।

বারবার বলে আসছি কোনো অবস্থাতেই ডলারের ভিন্ন দর থাকা যাবে না। আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমরা কোথাও যেতে পারব না বলে যা দেবেন তাই আমাদের নিতে হবে, এতে এক ধরনের বিপর্যয় হয়েছে। আমাকে যখন ৯৫ টাকা দিলেন তখন রেমিট্যান্সকে দিলেন ১১০ টাকা। এখানে ৭ থেকে ১০ টাকা বেশি ব্যবধান ছিল। আরেকটি বিষয় আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক পেমেন্ট ঘটেনি। কভিডের পর ক্রেতারা আমাদের রপ্তানির পেমেন্ট দিয়েছে ১৮০ দিন পর। আমরা তখন অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখেছি আমাদের ডলার কীভাবে চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়। আমরা গভর্নরকেও বারবার ভিন্ন দর না রাখার জন্য বলেছিলাম কিন্তু বারবার বসার কথা বলেও তারা বসেননি।

বাংলাদেশের পাঁচটি সমস্যার সমাধান করলে রপ্তানি আয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। আমাদের গ্যাস সংকটের সমাধান করতে হবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আধুনিকায়ন করতে হবে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও বেশি লেনে উন্নীত না করে বরং এক্সপ্রেসওয়ে করতে হবে এবং গভীর সমুদ্রবন্দরকে কাজে লাগাতে হবে। এ পাঁচটি বিষয় সমাধান না করলে রপ্তানি বাড়বে না। এখনো ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ।

আমাদের দেশে যদি আড়াই হাজার রপ্তানিকারক থাকে তার মধ্যে হয়তো ১০-২০ জন ব্যবসায়ী অত্যন্ত সচ্ছল। তাদের হয়তো কিছু ডলার জমা আছে। এবার ব্যাংক আইন করল একজনের ডলার অন্যজন ব্যবহার করতে পারবে না। আমরা রপ্তানি করে ইনকাম করব আর এর রেট নির্ধারণ করবে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। তা আবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্ডোর্স করবে এটা অন্যায়। এটা হতে পারে না।