নির্বাচনে ১৮৯৬ প্রার্থী, আ.লীগের ৩০ জন প্রত্যাহার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে লড়তে ২ হাজার ৭১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ভোটের মাঠে টিকে রইলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন। গতকাল রবিবার  আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

সচিব বলেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল রবিবার (১৭ ডিসেম্বর)। ৬৪টি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭১৬। বাছাইয়ে বাতিল হয়েছিল ৭৩১, আপিল হয়েছিল ৫৬০ এবং আপিল মঞ্জুর হয়েছে ২৮৬ এবং আপিল নামঞ্জুর হয়েছিল ২৭৪টি।

এ ছাড়া সারা দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়েছে ৩৪৭, স্থগিত আছে ৫টি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে এখন বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৬।

তিনি আরও বলেন, এখন ২৭টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ২৮টি রাজনৈতিক দল থেকে ১টি দল, অর্থাৎ গণতন্ত্রী পার্টি বাদ গেছে।

ছিটকে পড়েছেন আ.লীগের ৩০ প্রার্থী : সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুটি বাদ রেখে ২৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে ২৬ ও ১৪ দলের শরিকদের ৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ৩২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকছে না। দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়ে জানিয়েছে দলটি।

জাপার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হয়েছে ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগে থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ আসনে নৌকার প্রার্থী ইমদাদুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নীলফামারী-৩ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রানা মোহাম্মদ সোহেলের জন্য। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন গোলাম মোস্তফা।

নীলফামারী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন জাকির হোসেন। আসনটি বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাপার প্রার্থী আহসান আদেলুর রহমানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রংপুর-১ আসনে হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম রাজুকে। একইভাবে রংপুর-৩ আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তুষার কান্তি মণ্ডলকে। এ আসনে জাপার প্রার্থী হয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে জাপার প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান। কুড়িগ্রাম-২ আসনে পনির উদ্দিন আহমেদের জন্য নৌকার প্রার্থী জাফর আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গাইবান্ধা-১ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাপা প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে। এ আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন আফরুজা বারী, গাইবান্ধা-২ আসনে জাপার মো. আবদুর রশিদ সরকারের জন্য নৌকা ছেড়ে দিতে হয়েছে মাহবুব আরা বেগম গিনিকে।

বগুড়া-২ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তৌহিদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আসনটি জাপার প্রার্থী ও টানা দুবারের সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আসনটি জাপার প্রার্থী টানা দুবারের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম তালুকদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ আসনে নৌকার প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জাপার প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামানকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আসনটি জাপার কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী সরদার মো. খালেদ হোসেনকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে (টিপু) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. আশরাফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী মো. মাশরেকুল আজমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. আবদুল হাই আকন্দকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদকে (মুক্তি) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৮ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. আবদুছ ছাত্তারকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী ও টানা দুবারের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. নাসিরুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাপার মহাসচিব মো. মুজিবুল হককে (চুন্নু)।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. আবদুস সালামকে প্রত্যাহার করে জাপার প্রার্থী জহিরুল আলমকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ঢাকা-১৮ আসনে দলীয় প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের স্ত্রী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেরিফা কাদেরকে।

হবিগঞ্জ-১ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান আলমের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী মো. আবদুল হামিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. আবুল বাশারকে প্রত্যাহার করে নিয়ে জাপার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

চট্টগ্রাম-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুস সালামকে প্রত্যাহার করে নিয়ে আসনটি জাপার প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে দলীয় প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনটি জাপার প্রার্থী মো. সোলায়মান আলম শেঠকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। এ আসনে জাপার প্রার্থী সেলিম ওসমান।

শরিকদের ছাড়লো ৬ আসন : এবার দলীয় প্রতীক ছেড়ে নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন ১৪ দলের তিন নেতা হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও রাশেদ খান মেনন। বাকি তিনটি আসনেও জোটের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন।

বরিশাল-২ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের জন্য। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তালুকদার মো. ইউনুস। রাজশাহী-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া-২ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এ আসনে আগে থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়া বগুড়া-৪ আসনে জাসদের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের জন্য নৌকার প্রার্থী হেলাল উদ্দিন কবিরাজ এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোশাররফ হোসেনের জন্য ফরিদুন্নাহার লাইলীকে প্রত্যাহার করেছে সরকারি দল।

পিরোজপুর-২ আসনে জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জন্য নৌকার প্রার্থী কানাই লাল বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।