চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিমি লাইয়ের বিচার গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। অঞ্চলটির ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে কারাবন্দি ৭৬ বছর বয়সী লাই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, হংকংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনের অঙ্গুলি হেলনে জিমি লাইয়ের বিচার শুরু হলো। আজীবন কারাদন্ডাদেশের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম সম্পদশালী এই ব্যক্তি গণতান্ত্রিক শাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয়। অনুসারীরা অভিযোগ করছেন, চীনা প্রশাসন ভিন্ন মত দমনের অংশ হিসেবে তাকে কারাবন্দি করে। হংকংয়ের ‘মিডিয়া মোগল’ নামে পরিচিত জিমি লাইয়ের বিচার নিয়ে সারা বিশ্বের অধিকারকর্মী ও সরকারগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যাপল ডেইলি’ সংবাদপত্র চীনপন্থি প্রশাসনের চাপের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে।
সরকারের পছন্দমতো তিনজন বিচারকের সামনে জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার শুরু হয়েছে। লাইয়ের বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত ‘রাষ্ট্রদ্রোহী প্রকাশনা’ মুদ্রণ, প্রকাশ, বিক্রি ও বিতরণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ জুন অ্যাপল ডেইলি সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০২০ সালের আগস্টে। ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর লাইকে অভিযুক্ত করা হয়। গতকাল সোমবার তাকে আদালতে তোলা হলো।
ব্রিটিশ নাগরিককত্বধারী জিমি লাইয়ের বিচারকাজ পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন হংকংয়ে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা। ওয়েস্ট কোউলুন আদালতের বিচারকক্ষে প্রায় ১০০ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন, যারা গ্যালারি থেকে বিচারকাজ প্রত্যক্ষ করেন। গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক হংকংয়ে রোমান ক্যাথলিক কার্ডিনাল জোসেফ জেন এ সময় লাইকে অভিবাদন জানান। লাইকে আদালতে তোলার সময় সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতে গত রবিবার থেকেই আদালতের বাইরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।
জিমি লাইসহ গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারী এবং আইনপ্রণেতা মিলিয়ে হংকংয়ে প্রায় ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় এক বছর বিরতি দিয়ে বিচারকাজ শুরু হলো, যা ৮০ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে।