নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইমরান

পাকিস্তানে সামনে বছর নির্বাচন, ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমেছে দলগুলো। কিন্তু পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর শিরোমণি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আছেন কারাগারে। অথচ তিনিই পিটিআই এর আসল প্রতীক। এ অবস্থায় জনগণ ও সমর্থকদের সামনে ইমরান খানকে হাজির করতে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে তার দল পিটিআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ইমরানের কণ্ঠ নকল করে ও পুরনো ছবি দিয়ে নির্মিত নতুন একটি অডিও বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে।  

গত রবিবার দিনের শেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি এই ক্লিপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এক সমাবেশে ভাষণ দেন ইমরান খান। নির্বাচনী প্রচারণায় এআই’র ব্যবহার পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম।   

ভাষণে ‘কৃত্রিম ইমরান’ বলেন,’ ঐতিহাসিক এ কাজ যারা করেছেন, প্রথমে তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই।’ পাকিস্তানিদের সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবছেন, কারাগারে আমি কী করি। আপনাদের বলব, সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জনে আজ আমি বদ্ধপরিকর।’

অডিওতে ইমরানকে আরও বলতে শোনা গেছে, ‘আমাদের দলকে জনসমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের লোকজনকে অপহরণ করা হচ্ছে, তাদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।’ ৮ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে সমর্থকদের দলে দলে মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইনে ইমরানের পিটিআইয়ের সমাবেশে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সোমবার পাকিস্তানজুড়ে ইন্টরনেটে ধীরগতি থাকার পরও ইউটিউবে অডিও ক্লিপটি ১৪ লাখেরও বেশি মানুষের ভিউ পেয়েছে। পিটিআইয়ের প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটাতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।   

পিটিআই বলেছে, ইমরান খান আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য লিখে পাঠিয়েছিলেন।  বার্তাটি এআই ফার্ম ইলেভেন ল্যাবস এর একটি টুল ব্যবহার করে রেকর্ড করা হয়েছিল। ইমরানের আগের ভাষণ থেকে কণ্ঠ নকল করে বার্তাটি তার মতো করে তৈরি করা হয়েছে।

নানা মামলায় ইমরান খানকে আগস্ট থেকে কারাগারে রাখা হয়েছে। সাইফার মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আটকানোর জন্য এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।