ঢাকা আসতে গিয়ে ট্রেনের আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ব্যবসায়ীক কাজে নেত্রকোনা থেকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ঢাকায় রওনা হয়েছিলেন রশিদ ঢালী (৬০)। তবে সকাল থেকেই তার ফোন বন্ধ পাচ্ছেন স্বজনরা। 

রাজধানীর তেজগাঁও রেলস্টেশনে ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ৪ জনের মৃত্যুর খবর শুনে কপালে ভাজ পড়ে তাদের। ঢাকায় থাকা স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তেজগাঁও রেলস্টেশনে। জানতে পারেন মরদেহ নেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। সেখানেই শরীরের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন রশিদ ঢালীর মরদেহ।

তবে পুলিশ বলছে, চেহারা দেখে না চেনা যাওয়ায় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে এসে মৃতদেহ শনাক্ত করেন।

রশিদ ঢালীর ভাতিজা বেলাল আহমেদ বলেন, গায়ের সোয়েটার, জুতা দেখে তার চাচার মৃতদেহ শনাক্ত করতে পেরেছেন তিনি। তবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তার চেহারা দেখে চেনার উপায় নেই।

তিনি জানান, তাদের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার উত্তর নাগড়া গ্রামে। এলাকাতেই পোশাকের ব্যবসা করতেন। মালামাল কেনার জন্য নিয়মিতই তিনি নেত্রকোনা থেকে ট্রেনযোগে ঢাকায় আসতেন।

সোমবার রাত ১২টার দিকে তিনি মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে করে রওনা দেন। সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারা খবর পান, ঢাকায় ট্রেনে আগুনে ৪ জন মারা গেছেন। গ্রাম থেকে স্বজনদের মাধ্যমে সেই খবর পেয়ে ঢাকায় থাকা বেলাল চাচা রশিদ ঢালিকে খুজতে শুরু করেন।পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে তার পরণের পোশাক দেখে চিনতে পারেন। এছাড়া তার ক্লিন শেভ করা ও শুধু মাত্র গোফ ছিলো। তাও মিল পাওয়া গেছে মরদেহে।

স্বজনরা জানান, রশিদের স্ত্রীর নাম পেয়ারা বেগম। দুই ছেলে এক মেয়ের জনক তিনি। রশিদের বাবার নাম মৃত বসির ঢালি

ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সেতাফুর রহমান জানান, অজ্ঞাতনামা হিসেবে থাকা মরদেহের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বিকালে তার স্বজনরা গায়ের কাপড় ও জুতা দেখে তাকে শনাক্ত করেন। তবে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলিং মাধ্যমে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিহত শিশু ইয়াসিন ও তার মা নাদিরা আক্তার পপির মরদেহ বিনাময়নাতদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।