প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বুধবার সিলেট থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। সকালে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় অবস্থিত সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।
সিলেটের এই জনসভার মাধ্যমে শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। এরপর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তিনি সরাসরি দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করবেন এবং ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলায় সংযুক্ত হয়ে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এসব জনসভায় প্রধানমন্ত্রী গত তিন মেয়াদে সরকারের অর্জনের পাশাপাশি আগামী দিনে উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর ও জনসভাকে সফল করতে কয়েক দিন সিলেটে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রচার মিছিল, মাইকিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সিলেট নগর ও বিভাগের জেলা-উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফলের আহ্বান জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বিপুল লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন আজ সিলেটে জনতার ঢল নামবে। প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে নিিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সিলেটে নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের আশপাশের এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সড়কের ভাঙাচোরা মেরামত করে সড়ক বিভাজকে নতুন রঙ লাগানো হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নৌকার নকশায় তৈরি করা হয়েছে জনসভামঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতি দেখেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নানক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেটের প্রতি খুবই আন্তরিক। সিলেটবাসীও তাকে ভালোবাসেন। সিলেটের কোনো দাবিই প্রধানমন্ত্রী অপূর্ণ রাখবেন না।’
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিপুল লোক সমাগম ঘটাতে বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৯টি নির্বাচনী আসনে দলের প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থী নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে জনসভায় যোগ দেবেন। এতে জনসভাস্থলসহ পুরো সিলেটে জনতার ঢল নামবে বলে তারা আশা করছেন। আর এই সমাবেশের মাধ্যমে এবারের নির্বাচনী জোয়ারও উঠবে সিলেট থেকে। জনসভায় অন্তত ১০ লাখ লোক সমাগমের আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় ৫ বছর পর আজ সিলেটে জনসভায় ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার ভাষণ শুনতে সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’
নির্বাচনের বিধিনিষেধের কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া ছাড়া নির্বাচনী জনসভাগুলোতে উপস্থিত হবেন।
আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান গণমাধ্যমকে জানান, ২১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট, রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও পাবনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ভার্চুয়ালি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল সফরে বিকেল ৩টায় জেলা সদরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন। ৩০ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ এবং মাদারীপুর জেলা সফর করবেন আওয়ামী লীগপ্রধান। এদিন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসন নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এ ছাড়া এদিন মাদারীপুর-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা।