ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটভুক্ত সদস্য দেশ এবং ইউরোপীয় আইনসভা গতকাল বুধবার আশ্রয়প্রত্যাশী এবং অভিবাসী নিয়ে আইন পাস করতে একমত হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় সম্প্রদায় এ আইনের প্রশংসা করলেও অনেকে এর সমালোচনায় সরব হয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠনগুলো একে ‘ইউরোপীয় ডানপন্থিদের’ জয় বলছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ পদক্ষেপকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইউরোপীয় আইনসভার প্রেসিডেন্ট রবার্তা মেটসোলা এ সংক্রান্ত চুক্তিকে মাইলফলক আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের এ পদক্ষেপকে ‘খুব ইতিবাচক’। এ চুক্তির আওতায় অনিয়মিতভাবে আসা অভিবাসীদের সংখ্যায় লাগাম টানা, সীমান্ত এলাকায় আটক কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং যাদের আশ্রয়ের অনুরোধ প্রত্যাখাত হবে তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানা ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্স জানায়, তারা ৩ লাখ ৫৫ হাজারের মতো অনিয়মিত অভিবাসী নিবন্ধিত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় এ বছর ১৭ শতাংশই বেশি।
জার্মানি নতুন এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। গ্রিস চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাপ শলৎজ বলেন, এ পদক্ষেপ ‘ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশগুলোকে কিছুটা রেহাই দেবে, যার মধ্যে জার্মানিও রয়েছে।’ তবে হাঙ্গেরি এ চুক্তির বেশ কিছু শর্ত নিয়ে বিরোধিতা করেছে।
মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডানপন্থি রক্ষণশীলরা এ চুক্তি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা একে ঐতিহাসিক বলছে। তবে এর বিরোধিতায় নেমেছে পরিবেশবাদী, উদারপন্থি ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বরা। আবার আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থাও এর বিরোধিতায় সরব হয়েছে। জার্মানির ইইউ আইনপ্রণেতা ইউরোপীয় গ্রিন পার্টির নেতা ডেমিয়ান বোয়েসল্যাগার বলেন, ‘এ সমঝোতা আশ্রয় চাওয়ার অধিকারকেই খাটো করেছে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফাম ও সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো সংগঠন এ চুক্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা বলছে, এসব পদক্ষেপ একটি ‘বর্বর ব্যবস্থা’ চালু করবে। এক ডজন বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত সি-ওয়াচ সমুদ্রে অভিবাসীদের দাতব্য সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা বলছে, ‘এ সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রকৃতপক্ষে কোনো জীবনই রক্ষা পাবে না। এ সমঝোতা হচ্ছে ঐতিহাসিক ব্যর্থতা এবং ইউরোপীয় ডানপন্থিদের কাছে মাথা নোয়ানো।’