বার্লিনে ফিলিস্তিনপন্থি নারী সংগঠনের অফিসে তল্লাশি 

জার্মানিতে ফিলিস্তিনপন্থি একটি নারীবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক দপ্তর এবং সংস্থাটির কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত বুধবার দেশটির রাজধানী বার্লিনের পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। জার্মান গণমাধ্যমে সংগঠনটির বিরুদ্ধে উগ্রবাদী সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই সংগঠনটি নাম হচ্ছে ‘জোরা’।  

জোরার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তারা ‘উগ্র বামপন্থি’ পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) নামের একটি সংগঠনকে সমর্থন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে পিএফএলপি। মূলত সেই সূত্র ধরেই জোরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আরও অভিযোগ তোলা হচ্ছে, পিএফএলপির প্রতীক ব্যবহার করছে জোরা।

জার্মান পুলিশের সূত্র জানায়, বার্লিনের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তল্লাশি চালানো হয়েছে। এতে প্রায় দুইশ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তল্লাশিকালে ছয়টি ফ্ল্যাট, একটি অফিস এবং একটি ক্যাফেতে হানা দেন কর্মকর্তারা।

জার্মানির গণমাধ্যমের দাবি, জোরা গত ১২ অক্টোবার ইনস্টগ্রামে একটি পোস্ট করে, যেখানে বলা হয়, ফিলিস্তিনের মুক্তি ছাড়া কোনোভাবেই নারীদের মুক্তি সম্ভব নয়। আবার একটি বিবৃতিতে জোরা বলছে, ‘ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস

পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে কোনোও লড়াই করছে না। সংগঠনটির সেই ধরনের কোনো লক্ষ্যও নেই। তাই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে পিএফএলপির মতো প্রগতিশীল গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে হবে।’ নিজেদের ওয়াবসাইটে জোরা নিজেদের সম্পর্কে জানিয়েছে, তারা তরুণ নারীদের স্বাধীনতার পাশাপাশি পুঁজিবাদ সভ্যতার বিরোধী।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিষ্ঠিত ফিলিস্তিন প্রিজনার্স নেটওয়ার্ক তথা সামিদৌন। গত নভেম্বরে জার্মানি হামাসের সঙ্গে এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে সাব্যস্ত করে নিষিদ্ধ করে। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর জোরা একটি বিবৃতিতে বলে, জার্মানি নারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতিমূলক বার্তাকে রুখতে চাইছে। ফিলিস্তিনপন্থি ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাকে নির্দেশ করে জোরা ওই বিবৃতি দিয়েছিল।