ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) উপাচার্য ড. কামরুল আহসান যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেটালার্জি ও ম্যাটেরিয়ালস বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন ইউটিইএম-এ। বর্তমানে তিনি ইউএপির ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএপি, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন তরুণোদয়ের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনাম-উজ-জামান
তরুণোদয় : দুটি বিষয়ের কথা বলুন, যে দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি ভর্তি হতে চায়?
ড. কামরুল আহসান : প্রথমটি ফার্মেসি। যে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আমি বলতে পারি আমাদের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ বেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। আমাদের দুটি ল্যাব আছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারে। শুধু ল্যাবই না, এই বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকরাও একটি কারণ। শুধু ফার্মেসি বিভাগেই নয়। তারপর আসে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। ফার্মেসি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি লক্ষ করি। টিচার্স পুল সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের বিজনেস বিভাগেও। সেখানেও আমরা নবীন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ লক্ষ করছি।
তরুণোদয় : প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম হলো ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। শিক্ষার্থীদের পছন্দেরও প্রথম দিকেই। তাদের আগ্রহের কথা ভেবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে?
ড. কামরুল আহসান : ডাইভারসিফিকেশনের জন্য আমরা বিভিন্ন ডিসিপ্লিনকে অন্তর্ভুক্ত করি। সেই অর্থে দেখতে গেলে আমার ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ করতে হবে, আইন মেনেই করতে হবে।
তরুণোদয় : আপনি বলছিলেন আপনারা গবেষণায় ভালো করছেন। গবেষণায় আপনাদের অবদান সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. কামরুল আহসান : গবেষণার ক্ষেত্রে একটা সীমাবদ্ধতা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে। সেটা হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে পারে না। পিএইচডি ডিগ্রি হলো গবেষণার অন্যতম প্রণোদনা। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে যেহেতু পিএইচডি দিতে পারে না ফলে এখানে আমরা পিছিয়ে থাকি। আমরা গ্র্যাজুয়েট লেভেলে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উৎসাহিত করছি। যদিও পিএইচডি গবেষণার ব্যাপ্তি আর মাস্টার্সের গবেষণার ব্যাপ্তি এক নয়। তবু মাস্টার্সের গবেষণার অভিজ্ঞতা তাদের পরে পিএইচডি গবেষণায় সহযোগিতা করবে। পিএইচডি দিলে পোস্ট ডক করা যায়। তখন আমরা সত্যিকারের গবেষক তৈরি করতে পারব। যারা নিজেরাই গবেষণা করতে পারবে। আটটা বিভাগ থেকে আমরা ডিগ্রি অফার করছি। প্রতিটি বিভাগেই স্নাতকোত্তর আছে। এর ফলে যেটা হচ্ছে তা হলো অন্য কোথাও যখন পিএইচডি করতে যাচ্ছে তখন তারা অনেকটা এগিয়ে থাকছে। আরেকটা জিনিস আমরা চাই তা হলো প্রয়োগ। গবেষণা করে একটা জিনিস বের করলাম কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। এখন আমরা প্রয়োগেও যেতে চাই। ইন্ডাস্ট্রি বলছে আপনাদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের) ছাত্র দিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে না। আমরা তাদের বলছি আসেন একসঙ্গে কাজ করি। কী করলে আপনাদের কাজ হবে বলেন আমরা গবেষণা করে বের করি। এতে দুই দিকেই লাভ হবে। ইন্ডাস্ট্রি পাবে তার কাক্ষিত ম্যানপাওয়ার আর আমরাও গবেষক পাব। আর একটা ব্যাপার, গবেষকরা যে গবেষণা করেন তা থেকে তারা কীভাবে জানবেন যে তারা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করছেন? সেটা জানা যাবে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। আমরা এই পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে সচেতন ও সচেষ্ট।
তরুণোদয় : আপনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, পড়িয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে চাই আমরা কেন অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছি?
ড. কামরুল আহসান : বিশ্ববিদ্যালয় হলো শেষ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমরা গঠিত শিক্ষার্থীদের ঘষামাজা করতে পারি। কিন্তু তাদের ভিত্তি গড়ে দেয়, বলা ভালো, তাদের তৈরি করে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে যদি গুণগত পরিবর্তন না হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে আমরা আহামরি পরিবর্তন করতে পারব না। শিক্ষার সার্বিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
তরুণোদয় : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আপনার সার্বিক পরামর্শ কী?
ড. কামরুল আহসান : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করা শুরু করেছে। অনেক বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় তাদের গবেষণার বরাদ্দ সবার জন্য খুলে দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আর কী করতে পারে? একত্রে গবেষণা করতে পারে, রিসোর্স শেয়ার করতে পারে, আলাদা আলাদাভাবে না করে একসঙ্গে শক্তিশালী জার্নাল প্রকাশ করতে পারে।
তরুণোদয় : একজন শিক্ষার্থী কেন ইউএপিকে বেছে নিতে আগ্রহী হবে?
ড. কামরুল আহসান : করোনার সময় আমরা টিউশন ফি কমিয়েছি, কিস্তির সংখ্যা বাড়িয়েছি। পয়সার অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী পড়তে পারবে না তা যেন না হয়, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করি। এখানে শিক্ষার পরিবেশ আছে। তার বিকশিত হওয়ার পরিবেশ আছে। আমাদের ছাত্রদের আগ্রহেই পনেরো-বিশটি ক্লাব আছে, ছাত্ররা সম্মান বয়ে আনছে দেশ-বিদেশ থেকে। এর ফলে ক্যাম্পাসে একটা ইতিবাচক ভাইভ বিরাজ করি। বুলিং, হ্যারাজমেন্ট, র্যাগ ইত্যাদির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। শিক্ষার্থীদের মানসিক সেবায় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এর জন্য যা প্রয়োজন আমরা তা করবই। একজন শিক্ষার্থী ইউএপিতে নিরাপদ বোধ করবে এবং এই কারণেই সে এখানে পড়তে আগ্রহী হবে।