বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জীববিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণে আঞ্চলিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
এ বছর জীববিজ্ঞান উৎসবের পরীক্ষা সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৭টি কক্ষে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবে ৩ ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল) ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ-৮ম শ্রেণি, সেকেন্ডারিতে নবম-দশম শ্রেণি ও হায়ার সেকেন্ডারিতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তিনটি ক্যাটাগরির প্রতিটিতে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ২০ শতাংশ প্রতিযোগী জাতীয় উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সবিবুল হক।
জীববিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘আমাদের জীবনের সঙ্গে যে রহস্যগুলো জড়িয়ে আছে, সেটি উদঘাটন সম্ভব জীববিজ্ঞানের জ্ঞানের মাধ্যমে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানের হাতেখড়ি হয়েছে হয়তো একটি পাতা, গাছের মূল বা ফুল দিয়ে। তবে জীববিজ্ঞান আরও অনেক দূর পৌঁছেছে এখন। বাহ্যিক বস্তুর পাশাপাশি যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব সেখানেও জীববিজ্ঞান বিস্তৃত। জীবের অভ্যন্তরীণ একটি অতিক্ষুদ্র অংশ হলো, ডিএনএ বা জিনোম যেটিকে জীবনের মূল বলা হয়। জীববিজ্ঞানের কল্যাণে আজ সে ক্ষুদ্র অংশেও পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।’
অধ্যাপক ড. শহীদুল আরও বলেন, ‘বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে জীনের সংযোজন, বিয়োজনের মাধ্যমে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসা হচ্ছে। ফসলের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বৈশি^ক জলবায়ু পরির্তনের প্রভাবকে মোকাবিলা করতে পারে এমন সব বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবন করা প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যেই গবেষণাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি আজকের এই শিক্ষার্থীরা আগামীতে জীববিজ্ঞানের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এবং সুন্দর দেশ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবে।’
এ আয়োজনে ছিল জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়াবলি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। প্রতিযোগিতা শেষে দুপুরে জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত প্রতিযোগীদের মেডেল, সনদপত্র ও টি-শার্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, এ বছর ৩৭তম জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে মোট চারজন প্রতিযোগী এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মোট ১১টি অঞ্চলে এ প্রতিযোগিতা আয়োজিত হচ্ছে। আঞ্চলিক, জাতীয় এবং এরপর বায়োক্যাম্প করার মাধ্যমে চারজন প্রতিযোগী চূড়ান্ত অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হবে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিজয়ীরা বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন।
লেখক : শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
