নতুন বছরের সূচনা মাস বৈশাখকে বরণ করে নিতে দেশব্যাপী আয়োজিত হয় নানা রঙের ও বর্ণের উৎসব। বাংলার নতুন মাসকে বরণ করে নিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উঠোনে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী স্বপ্নবিতানের ‘বৈশাখীয়ানা’ উৎসব। এ উৎসবে এক সুরে গেয়ে উঠেছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাস। পহেলা বৈশাখের কয়েক দিন আগে থেকেই স্বপ্নবিতান সংগঠনের বৈশাখীয়ানা উৎসবের জন্য চলছিল জোর প্রস্তুতি। মাটির হাঁড়িতে নকশা এঁকে, ফুলের পেপার কাটিংয়ে সাজিয়ে এবং গ্রামীণ শিল্পের কারুকাজে বটতলাকে নতুনরূপে সাজায় স্বপ্নবিতান। প্রবেশদ্বারের বামপাশে সারি করে ছিল ছোট ছোট স্টল। বটমূলের ডানপাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হয়েছিল মঞ্চ। উৎসবের তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল একক সংগীতানুষ্ঠান, দেশের গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি প্রভৃতি। সকালবেলা ক্লাসের ফাঁকে আর বিকেলে অবসরে শিক্ষার্থীরা স্টলে ঘুরে ঘুরে, বটতলায় হাসি-আড্ডায় মেতে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মেলায় বসেছিল বইয়ের স্টল, দেশীয় খাবারের স্টল, হস্তশিল্পের বিভিন্ন তৈজসপত্রের স্টল। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব জেলার ঐতিহ্য সবার সামনে তুলে ধরতে জেলার বিখ্যাত জিনিসের পসরা নিয়েও বসেছিল। টাঙাইলের চমচম, খুলনার চুইঝাল, দেশীয় খাবার, বাহারি চুড়ি ও কসমেটিকস, আইসক্রিম, ফাস্ট ফুড প্রভৃতি পণ্যের সমাহার ছিল উৎসবে। স্বপ্নবিতানের আয়োজিত বৈশাখীয়ানার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা, যা মেলার শেষ সন্ধ্যাকে রাঙিয়ে তোলে সুরের ইন্দ্রজালে। শিক্ষার্থীরা সুরের তালে নেচে গেয়ে উৎসবকে প্রাণচঞ্চল করে তোলে। ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
লেখক : শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় সেমিস্টার, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া