‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ফের তৃতীয় ধাপে ৫১ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকার। জাপান সরকারের ৪৪তম ওডিএ লোন প্যাকেজের ৩য় ব্যাচের আওতাধীন এ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। ইআরডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইআরডি জানায়, ঋণচুক্তিটির আওতায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি ৫০ লাখ জাপানিজ ইয়েন (আনুমানিক ৫১ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার) ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। স্বাক্ষরিত ঋণের বাৎসরিক সুদের হার নির্মাণ কাজের জন্য ১ দশমিক ৩০ শতাংশ, পরামর্শক সেবার জন্য শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ এককালীন শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। ৩য় পর্যায়ের এ ঋণের জন্য গতকাল বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান সরকারের মধ্যে বিনিময় নোট ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বিনিময় নোট ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেন। জাপান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়াওমা কিমিনরি বিনিময় নোট এবং বাংলাদেশের জাইকা অফিসের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি জোশিদা ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এনইসি-২ সভা কক্ষে উক্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণসহ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিমান পরিবহনের চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা (জিওবি ৫ হাজার ২৫৮ কোটি, জাইকা ১৬ হাজার ১৪১ কোটি)। প্রকল্পের মেয়াদকাল জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত। নভেম্বর ২০২৩ সময় পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব ভৌত অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে জাইকা পর্যায়ক্রমে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে; এর আগে ২টি পর্যায়ে মোট ১৫ হাজার ৬৮২ কোটি ৫০ লাখ জাপানিজ ইয়েনের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।