আমাদের দেশে মেরুদন্ডের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো রোগীর সংখ্যা অনেক। যদিও এর তেমন কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ব্রিটেনের জরিপে দেখা গিয়াছে, প্রতি ১০০০ মানুষের মধ্যে ২ জনের মেরুদন্ডের ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু জাপানের জরিপে এই পরিসংখ্যান ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ২ জন। উন্নত বিশ্বে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন কমে যাচ্ছে। মেরুদন্ডের ত্রুটি বা স্পাইনাল ডিজরেফিজম প্রধানত ৩ প্রকার। মাইলো ম্যানিঙ্গোসিল
ম্যানিঙ্গোসিল
স্পাইনা বাইফিডা অকালটা। জন্মগতভাবে রোগীর মেরুদন্ডের নিচের অংশে টিউমারের মতো ফোলা অংশ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
লক্ষণ : অনেক সময় সেই স্থান দিয়ে পানি বের হয়ে আসে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সেখানে সলিড টিউমার থাকে। কারও কারও সেখানে পানির থলি থাকে। এসব রোগী সাধারণত পায়ের নড়াচড়ার শক্তি থাকে না। কারও অনবরত প্রস্রাব ঝরে, কারও মাথা বড় হতে থাকে এবং ব্রেনে পানি জমে। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সেখানে এক গুচ্ছ চুল থাকতে পারে।
কারণ : মেরুদন্ডের ত্রুটি বা স্পাইনাল ডিজরেফিজম রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে পারিবারিকভাবে এক ভাইবোনের থাকলে অন্যদের হতে পারে। তা ছাড়া কিছু ওষুধ যেমন সোডিয়াম ভেলপয়েট প্রেগনেন্সির আগে খেলে এই রোগ হতে পারে। তা ছাড়া কিছু ভিটামিন যেমন ফলিক অ্যাসিডের অভাব থাকলে এই রোগ হতে পারে।
করণীয় : মেরুদন্ডের ত্রুটি বা স্পাইনাল ডিজরেফিজম রোগীর জন্য বাচ্চা নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে আগে থেকেই ফলিসন ট্যাবলেট একটা করে ২ বার মাকে খেতে হবে এবং প্রেগনেন্সির সময় এই ভিটামিন কনটিনিউ করতে হবে। তা ছাড়া নিজেদের রক্ত সম্পর্কে ভাইবোন বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিবাহ দেওয়া যাবে না। এই রোগ হলে নিউরোসার্জনের মাধ্যমে শুরুতেই অপারেশন করতে হবে।