দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ইশতেহার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ইশতেহারে যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সেটি বাস্তবায়ন নির্ভর করে সামর্থ্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেটির সঠিক বাস্তবায়নেই বলে দেবে ইশতেহারের সার্থকতা ও ব্যর্থতা।
তারা আরও বলছেন, আগামীর ‘স্মার্ট সোনার বাংলা’ গড়তে ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি এই ইশতেহার। রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সুশাসন নিশ্চিত হলে উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ক্ষমতাসীন দলের ইশতেহার উচ্চাভিলাষী নয় বরং বাস্তবায়নযোগ্য।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোট কিংবা বড় হোক সব রাজনৈতিক দল ইশতেহারে ভালো ভালো কথা উল্লেখ করে। এর মাধ্যমে দলগুলো যে রূপকল্প ও সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়, সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা-ই বিবেচনার বিষয়।’ চারবারের অভিজ্ঞতার আলোকে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার প্রকাশ করেছে তাতে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। অধ্যাপক মান্নান এর কারণ উল্লেখ করে বলেন, এই ইশতেহার আগের টানা তিন সরকারের ধারাবাহিক পরিকল্পনার ফসল। আওয়ামী লীগ পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
এই ইশতেহারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুটি দিক রয়েছে, যা একে অন্যের পরিপূরক এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণের নাভিশ্বাস অবস্থা। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আবার স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এগারোটি অঙ্গীকারের দিকে তাকালে দেখা যায় আর্থিক সামর্থ্যরে সঙ্গে পরিকল্পনার রসায়ন, সরকারের সদিচ্ছার মেলবন্ধন হলে এই ইশতেহার আগামীর পথপ্রদর্শক হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ম্যান্ডেট থাকলে সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে।’
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ইশতেহারে ভালো কথা থাকবেই। এর বাস্তবায়ন কতটা হয় তা দেখার বিষয়, বিশেষ করে ব্যাংক খাত তারা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয়। অর্থনীতি যারা চালাবে সেই দলে কারা থাকবে তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রে যে রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে কী উদ্যোগ রয়েছে, এই ইশতেহারে তাও দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হবে রাজনৈতিক, সেটা সমাধান হয়নি বলেই তো জবাবদিহি নেই। সুশাসনের মূলেই রয়েছে গণতন্ত্র।’