রপ্তানি খাতের বিভিন্ন পণ্যে নেতিবাচক ধারা থাকলেও পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১১ মাসে শুধু পোশাক খাতেই প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন ভোক্তারা। প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যতে ক্রেতাদের মনোযোগ ছিল বেশি। বৈশ্বিকভাবে ২০২৩ সালটি পোশাক খাতের জন্য ২০২২-এর মতো অতটা ভালো ছিল না। ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি ছিল ৫৭৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩-এ তা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকার পোশাক আমদানি কমেছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, জানুয়ারি-নভেম্বর ২০২৩ সময়ে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ মাত্র, আর যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ৯ শতাংশ। অর্থাৎ সার্বিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রধান দুটি বাজারে রপ্তানি খুব একটা বাড়েনি। অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধির কল্যাণেই আমাদের সার্বিক রপ্তানিতে এখনো কিছুটা প্রবৃদ্ধি বজায় আছে।
বিজিএমইএ নেতারা ২০২৪ সালে তৈরি পোশাকের রপ্তানি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির রপ্তানি পরিস্থিতি নির্ভর করছে। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাপ্লাই চেইন, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি বিষয়। সেই সঙ্গে আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও কিছু চাপ তৈরি হয়েছে, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিম্নমুখী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজিএমইএ নেতাদের মতে, ‘শিল্প খাতগুলোকেও সুরক্ষা দিতে হবে, যেন বিনিয়োগ আসে আর আমরা কম্পিটিটিভ থাকতে পারি। ২০২৪-এ সার্বিকভাবে আমরা একটু চাপের মধ্যেই থাকব, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়বে বলে আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি। আমরা যদি আমাদের অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে পারি আর নতুন পণ্য ও বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারব।’