জ্বালানির পাঁচ প্রতিষ্ঠানে এক দিনেই নতুন এমডি

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) সরিয়ে ওই পদে ক্যাডার সার্ভিসের চার কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। একই দিনে একই আদেশে জ্বালানি খাতে এভাবে দায়িত্ব দেওয়া অতীতে আর হয়নি। নির্বাচনের আগে শীর্ষ পদে এ ধরনের রদবদল নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মো. আলতাফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেট্রোবাংলার কন্ট্রাক্ট ডিভিশনে কর্মরত মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি ক্যাডার) শাহনেওয়াজ পারভেজকে কাজের স্বার্থে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হলো। একই আদেশে জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুখসানা নাজমা ইসহাককে বদলি করা হয়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে।

অন্যদিকে পেট্রোবাংলার সেবা বিভাগে কর্মরত আরপিজিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ক্যাডার) মো. আতিকুর রহমানকে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উৎপাদন ও বিপণন বিভাগে কর্মরত পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি ক্যাডার) মো. আনোয়ারুল ইসলামকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি ক্যাডার) উত্তম কুমারকে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (এসজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিবিসি) সুপারিশ বাধ্যতামূলক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা রয়েছে, যা মানতে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা মানতে বাধ্য। গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ারও বিধান রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বিধান ও নিয়মকানুন মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে সাধারণত এ নিয়ম মানা হয় খুব কমই। নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা এসব সুবিধাজনক পদে গিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন এবং অন্যের আখের গোছাতে সহায়তা করেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অদৃশ্য ইশারা থাকার কথাও শোনা যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জ্বালানি খাতের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় নিরাপত্তার কারণেও রদবদল হতে পারে বা অভ্যন্তরীণ কোনো কারণও থাকতে পারে। তবে একসঙ্গে চারজনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া বেমানান।’

জিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সুফি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা খুব খারাপ কাজ হয়েছে। জুনিয়রদের পোস্টিং দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্যহীন অবস্থার তৈরি হবে। এতে অনেক কর্মী হতাশ হবেন। আবার প্রতিষ্ঠানও হবে ক্ষতিগ্রস্ত। আরও বিবেচনা করে বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল।’

পেট্রোবাংলার অফিস আদেশে অবশ্য বলা হয়েছে, চলতি দায়িত্ব একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় হবে না এবং নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে কারও কোনো অধিকার সৃষ্টি বা ক্ষুন্ন করবে না।

বিষয়টি জানতে গতকাল রাতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা জানান, এটা রুটিন ওয়ার্ক। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। তাছাড়া নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসহ নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। নির্বাচনের আগে সেটা সম্ভব না হওয়ায় চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।