মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী মিজানুর

নাটোরের বড়াইগ্রামে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাল্টা। উপজেলার আটঘরিয়া এলাকায় ১৭ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষী মিজানুর রহমান। সমতল ভূমিতে এ ফল চাষে সফল হওয়ায় এলাকায় তিনি মাল্টা মিজান নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। 

জানা যায়, মিজান পেশায় ট্রাক চালক ছিলেন। এক সময় বাড়তি আয়ের আশায় সৌদি আরব যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় ইউটিউবে দেখে তার মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মে। বিদেশ থেকে ফিরে আটঘরিয়া এলাকায় ১৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বারি-১ ও মিশরীয় জাতের মাল্টা চাষ করেন। তার বাগানে বর্তমানে এক হাজার ৬৮৩ টি মাল্টা গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফল ধরতে শুরু করলেও তিন বছর পর প্রতিটি গাছে পূর্ণাঙ্গরূপে ফল ধরা শুরু করে। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০০-৪০০টি মাল্টা পান তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাগানে সারিবদ্ধ মাল্টার গাছ। বাগানে ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা সারা বছরই এ বাগানে কাজ করেন। এছাড়া মাঝে মধ্যে ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে। মাল্টা চাষ করে মিজানুর এখন সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই মৌসুমে  মাল্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে ১৪ লাখ টাকা।রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মাল্টা নিয়ে যায়।

মিজানুর রহমান বলেন, মানুষকে ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল খাওয়ানোর কথা চিন্তা করেই মাল্টার বাগান করেছি। মাল্টা চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শসহ নানাভাবে সহযোগিতা পেয়েছি। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, মাল্টা চাষ করে মিজানুর সফল হয়েছেন।  তার দেখাদেখি এলাকায় মাল্টা চাষের প্রবণতা বাড়ছে।