পাবনা ১ আসনের সাঁথিয়ায় ট্রাক মার্কা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রচারণা মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলালসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সাঁথিয়া বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও সাঁথিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁথিয়া পৌর শহরের সামনে ট্রাক মার্কার মিছিল চলছিলো। এসময় সাঁথিয়া পৌর মেয়র মাহবুব আলম বাচ্চু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন ও সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল খান সানার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের উপর হামলা চালায়।
এসময় তারা মিছিলে ইট ছুঁড়তে শুরু করে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও তারা নিজেরাই সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসে ভাঙচুর চালায়। আমরা আশঙ্কা করছি, তারা এ ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের ভোটের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
আহত আব্দুর রশিদ দুলাল বলেন, আওয়ামীলীগ অফিসের সামনেই সাঁথিয়া থানা। পুলিশের সামনে সকল ঘটনা ঘটেছে। সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ হয়েছে। আশা করি তারা প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা দেখে নৌকা প্রার্থীর মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় পাল্টা আক্রমন করছি না। এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শামসুল হক টুকুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিসে বসেছিলাম। এ সময় সাঈদের সমর্থকরা আমাদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে। তখন আমরা দৌঁড়ে আওয়ামী লীগের অফিসে যাই। এ সময় সাঈদের সমর্থকরা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় আমাদেরও ৩-৪ জন আহত হয়েছে।'
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, কিছু অতি উৎসাহী লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। এখানে হামলার মতো তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি।