ভোলায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হামলা-ভাঙচুর

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

ভোলায় ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ এসে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টার দিকে ভোলা শহরের মাছুমা খানম স্কুল রোডে অবস্থিত ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের রাড়িরহাট এলাকার আড়তশ্রমিক মো. পারভেজ হাওলাদারের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম জ্বরে আক্রান্ত হলে বৃহস্পতিবার তাকে ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের দাবি, এর আগে তারা হোসনেয়ারাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ডা. সাদিয়া তাবাসসুম মোহনার কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান, গর্ভের শিশু অপুষ্টিতে রয়েছে এবং আরও কিছুদিন পরে সিজার করতে হবে। পরে ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মনিরা সুলতানার কাছে নেওয়া হলে তিনি জানান, শিশুর অবস্থা ভালো এবং সিজার করা সম্ভব।

পরিবারের অভিযোগ, রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগেই শুক্রবার বিকেলে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

নিহত নবজাতকের বাবা মো. পারভেজ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে সিজার করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নবজাতকের ফুফু খাদিজা আক্তার জানান, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হোসনেয়ারা বেগমের খিঁচুনি দেখা দেয়। কিন্তু খিঁচুনির চিকিৎসা না করে দ্রুত সিজার করা হয়। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ডাক্তার বের হয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের ধমক দিতে থাকেন। পরে জানতে পারি নবজাতক মারা গেছে। প্রসূতি মাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।’

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতালের মূল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্ধার করে। এ সময় চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি হওয়ার পর রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরে অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সিজার করা হয়। এটি ছিল রোগীর দ্বিতীয় সিজার। অপারেশনের আগেই ডাক্তার রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছিলেন। নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই শিশুটি মারা যায়।’

ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, পারভেজ-হোসনেয়ারা দম্পতির এটি ছিল দ্বিতীয় সন্তান। এর আগে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত