‘আমি আমার আমিকে চিরদিন, এই বাংলায় খুঁজে পাই’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে গত ১২-১৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা উৎসব ১৪৩০’।
১২ ডিসেম্বর কেক কাটার পর বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন চরিত্রে সজ্জিত হয়ে উপাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি র্যালি বের করে। সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, লুডু, ক্যারম, দাবাসহ বিভিন্ন খেলায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য ছিল হাঁড়ি ভাঙা ও প্রিয়ার কপালে টিপ খেলা। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, ধর্মীয় গান, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, সৃজনশীল রচনা, অভিনয়, নাচ। ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবীনবরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও শিক্ষক সম্মাননা। শিক্ষক সম্মাননায় সুমাইয়া আফরীন সানি ও নাহিদা বেগমকে পিএইচডি ডিগ্রি সমাপনের জন্য বিভাগের ভাষা-সাহিত্য পরিষদ থেকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের নির্দেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সুখ কোথায়’ এই কনসেপ্টকে মাথায় রেখে এবারের বাংলা উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি একটি নাটকের আদলে পরিবেশিত হয়েছে। যার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল গান, নাচ ও আবৃত্তি। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ষন্ডরাম নামের এক কাল্পনিক চরিত্র, যার স্ত্রী ঝান্ডুবালা। তার সংসারে দারুণ অশান্তি। ষন্ডারামের বিশ্বাস সে মরে গেলেই তার স্বর্গ লাভ হবে এবং সেখানে সে অজস্র অপ্সরীদের সঙ্গে অনন্ত সুখের জীবন কাটাতে পারবে। কিন্তু ফাঁস নিয়ে মরতেও সে ব্যর্থ হয়। কারণ সেই গাছেই বসে ছিল ইচ্ছে পূরণের দেবতা। তিনি ষন্ডাকে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিলোক পরিভ্রমণের বর দেন যেন সে বুঝতে পারে কোথায় সুখ আছে। বর পেয়ে ষন্ডারাম প্রথমেই যায় পাতালপুরীতে। পাতাললোকে মানুষের কণ্ঠ শুনে কৈলাস থেকে আসে শিব, বৈকুণ্ঠ থেকে বিষ্ণু। হাল জিজ্ঞেস করেন নিজের অনুসারীদের। তারা মর্ত্যলোকের মানুষকে আবার মর্ত্যইে ফেরত পাঠান। কিন্তু এবার আর ষন্ডার শরীর থাকে না, থাকে কেবল আত্মা। শারীরিক অবয়বহীন ষন্ডারাম দেখে শহর, নগর, গ্রাম, ফসলের গান, ষড়ঋতুর উৎসবÍ। দেখে তরুণ-তরুণীর প্রেম-অভিমান, দ্রোহ, প্রণয়, পরিণয়, বন্ধুত্ব। কিন্তু এত সুখ আর সুন্দরের মধ্যে ষন্ডারামকে দেখতে হয় সুন্দরের বিপরীত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ইত্যাদি। এসব দেখে ষন্ডারামের মর্ত্যে থাকতে ইচ্ছা করে না। স্বর্গে এসেও সে দেখতে পায় দেবী দুর্গা, মনসা, লক্ষ্মী, অলক্ষ্মী সবাই কলহে লিপ্ত। সে সেখানেও টিকতে পারল না। ষন্ডারাম তখন নিজের স্ত্রী ঝান্ডুবালার কাছে ফিরে যেতে চায়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সমাপ্তির মধ্য দিয়েই শেষ হয় বাংলা উৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন।
আল-আমিন
১৪তম আবর্তন, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়