গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার এ মামলা করে দেশটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি দক্ষিণ আফ্রিকার ভাষ্য, ইসরায়েলের আচরণ, বিশেষ করে ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করছে দেশটি। গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যাসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলা হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে বলা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগের (ডিআইআরসিও) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বিচারে বলপ্রয়োগ এবং বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অপসারণের কারণে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ধরা পড়া বেসামরিক নাগরিকদের দুর্দশা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলিসহ সব বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সমস্ত সহিংসতা এবং হামলার নিন্দা করে। দক্ষিণ আফ্রিকা অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছে।
আদালতে আবেদনটি গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ পদক্ষেপ। গত মাসে দেশটির আইন প্রণেতারা প্রিটোরিয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ করার পক্ষে এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার পক্ষে ভোট দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গাজা ও দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে তার দেশে ১৯৯৪ সালে অবসান হওয়া শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুর বর্ণবাদ শাসনের জাতিগত বিভাজনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আল-জাজিরার গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্ডো, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে জানান, এই পদক্ষেপটি ইসরায়েলের কাছে কিছু দায়বদ্ধতার চেষ্টা করার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এদিকে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২১ হাজার ৬৭২ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে ৫৬ হাজার ১৬৫ জন।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এদিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। পাশাপাশি আরও রোগীকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সহায়তা চেয়েছে তারা। যুদ্ধে আহতদের এক শতাংশেরও কম মিসরের সঙ্গে থাকা রাফাহ ক্রসিং দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গাজা ছেড়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।