‘নৌকার রাজনীতি করে ট্রাকের পক্ষে ভোট করছিস বলেই গলা টিপে ধরে’

মেহেরপুর-১ আসনে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে এক নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান (৪৩), বাগোয়ান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালিদুজ্জামান খান ডালিম (৪৬), যুবলীগ কর্মী তেলা শেখ (৩২) ও সাবেক নারী ইউপি মেম্বর মুক্তা খাতুন (৩৭)। এ ঘটনায় মুজিবনগর থানায় পাল্টপাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক সানোয়ার হোসেন এবং খ ম ইমতিয়াজ বিন হারুন জুয়েল জানান, মুজিবনগর বাগোয়ান গ্রামের পাঠানপাড়ায় নৌকা প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নির্বাচনী অফিস আছে। তার দক্ষিণে মসজিদের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নানের (ট্রাক) পথসভা চলছিল। আব্দুল মান্নানের বক্তব্যের সময় নৌকার অফিস থেকে উচ্চশব্দে মাইক বাজাতে থাকায় সমাবেশের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছিল। এ সময় শহিদুল ইসলাম পেরেশান ও খালিদুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন নৌকার অফিসে গিয়ে তাদের মাইকের শব্দ কমাতে বলে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহত সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য মুক্তা খাতুন বলেন, ‘পেরেশান ভাইকে আটকে রেখে মারধর করছিল তকলিমা মেম্বারের ভাই লাবলু। আমি প্রতিবাদ করলে বলে তুই কেন নৌকার রাজনীতি করে ট্রাকের পক্ষে ভোট করছিস। আমি বলি দুই প্রার্থীই দলের। ভোটের পর আবার আমরা একই রাজনীতির। তাহলে ট্রাকের পক্ষে ভোট করলে আপত্তি কি? তখন লাবলু আমাকে গলা টিপে ধরে বড় দা দিয়ে মারতে আসে।তখন আমি রক্তাক্ত জখম হই।’

নৌকা সমর্থিত বাগোয়ান ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রাকিব বলেন, আমরা নৌকার অফিসে বসে এজেন্ট নির্বাচনসহ ভোট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করছিলাম। বাইরে মাইকে নৌকার নির্বাচনী গান বাজছিল। অদুরে ট্রাক প্রার্থীর সমাবেশ থেকে নৌকা প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছিলেন দলের সাবেক সাংসদ স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রার্থী আব্দুল মান্নান। এরমধ্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের নেতৃত্বে ১০/১২ জন নৌকার অফিসে ঢুকে উচ্চশব্দে মাইক বাজানোর অজুহাতে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রাক সমর্থকরা নৌকা অফিসের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করলে আশেপাশের লোকজন এসে তাদেরকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে পেরেশানসহ হামলাকারীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নৌকা সমর্থকদের হাতে কেউ আহত হয়নি। আশপাশের লোকজন হামলাকারীদের গণধোলাই দিলে তারা আহত হয়।

মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা বলেন, নৌকার অফিসে প্রথমে হামলা করা হয়েছে। আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আমরা মুজিবনগর থানায় মামলা করেছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। পথসভায় এমন হামলা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মুজিবনগর থানায় আমরা মামলা করেছি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার দত্ত বলেন, গতকাল রাতে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নৌকা পক্ষে খায়রুজ্জামান লাবলু বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলা নং-১৫। অন্যদিকে স্বতন্ত্র ট্রাক পক্ষে ডালিম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলা নং-১৪। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।