নওয়াজ শরিফের নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষা করছে পাকিস্তান। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্তদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে পারে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
সম্প্রতি নওয়াজ শরিফের মনোনয়নে বৈধতা দিয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। অথচ তার নামে পানামা পেপার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার সাজা ছিল। তাহলে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন কিভাবে? এ নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। শুধু নওয়াজ নন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি এ রকম সাজা পেয়ে থাকেন তাহলে যেন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা তৈরি না হয় সেজন্য দ্রুত একটি ফয়সালা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির বেঞ্চ। এ বিষয়ে পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে পিএমএল-এনের প্রাদেশিক সাবেক আইনপ্রণেতা সরদার মীর বাদশাহ খান কাইসরানি নির্বাচনি আইন, ২০১৭ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোগ্য ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেন। গত ১১ ডিসেম্বর এর ওপর শুনানি হয়। তাতে প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসা দেখতে পান যে, সুপ্রিম কোর্টের আজীবন অযোগ্য ঘোষণা এবং নির্বাচনি আইন ২০১৭ সংশোধনী একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, হয় পার্লামেন্ট থেকে পাস করা নির্বাচনি আইন ২০১৭ টিকবে, না হয় সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় টিকবে।
সুপ্রিম কোর্ট (প্রাকটিস অ্যান্ড প্রোসিডিউর) অ্যাক্ট ২০২৩ এর অনুচ্ছেদ ২ এর অধীনে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি একবার এবং সার্বিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। ২০১৮ সালে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১)(এফ)-এর অধীনে কোনো ব্যক্তিকে যদি অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়, তাহলে তিনি সারাজীবন অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
কিন্তু ওই রায়ের পর ইমরান খানের সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় আসে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট জোট। তারা নির্বাচনি আইন ২০১৭ সংশোধন করে। তাতে আইনপ্রণেতাদের অযোগ্য ঘোষণার মেয়াদ আজীবনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫ বছর করা হয়।
সমালোচকরা বলেন, এই কাজটি করা হয়েছিল নওয়াজ শরিফকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের জন্য। তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার সময় ৫ বছর অতিক্রম করেছে এরই মধ্যে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সংবিধানের ধারা এবং নির্বাচনি আইনের সংশোধন একসঙ্গে চলতে পারে না। ফলে সুপ্রিম কোর্ট কোন দিকে রায় দেয় তা বলা মুশকিল। যদি নওয়াজ শরিফ বৈধতা পান তাহলে একই সুবিধা পাবেন ইশতিহকামে পাকিস্তান পার্টির প্রধান জাহাঙ্গীর খান তারিন। কারণ তিনিও আজীবন অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।