পানগাঁও কাস্টমসের সাবেক সহকারী কমিশনার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও কাস্টমসের সাবেক সহকারী কমিশনার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিমন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক মো. ফজলুল বারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ে করেন। 

বিষয়টি দেশ রুপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মেট্রো শাখার উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও কাস্টমস হাউজের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. নিজামুল হক ও তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ করছেন এবং ২৬ লাখ ১৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। এ অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) এর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

জানা যায়, সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা নিজামুল হক ও তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ২০২০ সালের জুন মাসে তাদের সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেন। 

নিজামুলের দাখিল করা তথ্যে দেখা যায়, তিনি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫০ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৭ টাকা অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২ কোটি ১ লাখ  ৬৭ হাজার ২৪৭ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ২২৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ পাওয়া গেছে। 

তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ৮৯ লাখ ৬২ হাজার ৩১৪ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৬১ লাখ ১২ হাজার ২১১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫ টাকার অর্জনের তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি একটি ৫ তলা ভবনের মূল্যে ২৬ লাখ ১৬ হাজার ৬৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। যা দুদক আইনে ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট ১ কোটি ৭৬ লাখ  ৯০ হাজার ৫৮৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পারিবারিক ও অন্যান্য মিলে তা ২ কোটি ৯৪ লাখের বেশিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৮০ লাখ ৬৭ হাজার । সে হিসেবে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

জানা গেছে, নিজামূল হক ১৯৯০ সালে নাছিমা আক্তারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি কাস্টমস বিভাগে সর্বশেষ সহকারী কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। নাছিমা আক্তার আয়কর নথিতে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মূলত নাছিমা আক্তার তার স্বামীর অবৈধ আয়ের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন এবং স্বামীর অবৈধ সম্পদকে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হলো । দুদক মামলাটির তদন্ত করার ব্যবস্থা করবে।