বিদেশে রেকর্ড কর্মী যাওয়ার পরও রেমিট্যান্স বেড়েছে সামান্য

রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দরে ডলার কেনার সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৩ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় যা মাত্র ৬৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে রেকর্ড ১৩ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে কাজের জন্য যাওয়ার পরও রেমিট্যান্সে এমন প্রবৃদ্ধি খুবই সামান্য।

গত ডিসেম্বরে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে তা গত ছয় মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে গত জুনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১৯ কোটি ডলার। মূলত গত কয়েক মাস ধরে এবিবি ও বাফেদার বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে অনেক ব্যাংকের বেশি মূল্যে রেমিট্যান্সের ডলার সংগ্রহ আয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলার সংগ্রহের নির্ধারিত দামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকও কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমে। তবে প্রবাসী আয়ে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়ার ফলে অক্টোবরে তা বেড়ে যায়। এরপর নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় সামান্য কমলেও ডিসেম্বরে আবার তা বাড়ল। বছরের শেষ প্রান্তিকে বাড়তি প্রণোদনায় ভর করে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়ে। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭৯ কোটি ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময় শেষে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৯ কোটি ডলার।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেমিট্যান্স সংগ্রহের জন্য ব্যাংকগুলো ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দিতে পারে। এর বাইরে সরকারি প্রণোদনা ও ব্যাংকগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে পারে। সে হিসেবে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ডলারে দাম সর্বোচ্চ প্রায় ১১৫ টাকা পর্যন্ত দিতে পারে। তবে ব্যাংক এমডিদের সংগঠন দুটোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারণ করে দেওয়া ডলারের এই দাম অনেক ব্যাংকই মানেনি। সর্বোচ্চ ১২২ টাকায় এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে রেমিট্যান্সের ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো। এমন বর্ধিত মূল্যে ডলার কেনার কারণেই ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বেশ কয়েকটি ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুঝতে পেরেছে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম নিয়ে ব্যাংকগুলোকে খুব বেশি চাপ দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, এর আগে নভেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯৩ কোটি ডলারের বেশি। সেই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। গত অক্টোবর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯৭ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্সে ব্যাংকগুলোর বাড়তি প্রণোদনা ও নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনার কারণে সদ্য বিদায়ী বছরে প্রবাসী আয় আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ১৮২ কোটি ডলার বা ২১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। ২০২২ সালে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১২৮ কোটি ডলার। এর আগে ২০২১ সালে প্রবাসী আয় ছিল ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার।

 সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও নোমাডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের শেষে আনুষ্ঠানিক তথা বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সংস্থা দুটির পূর্বাভাস অনুযায়ী রেমিট্যান্স দেশে না এলেও আগের বছরের চেয়ে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।