দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী শাম্মী আহমেদ ও বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। শাম্মী আহমেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এদিকে ফরিদপুর-৩ আসনে নৌকার প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদনের শুনানি এ সপ্তাহে হচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। ফলে আগামী রবিবার হতে যাওয়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং হলফনামায় তা গোপন করেছেন এমন অভিযোগ এনে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেন। শাম্মী আহমেদের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১৫ ডিসেম্বর তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। ইসির এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন শাম্মী। ১৭ ডিসেম্বর তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন শাম্মী। ২১ ডিসেম্বর চেম্বার আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ২ জানুয়ারি (গতকাল) শুনানির জন্য পাঠায়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও শাহ মঞ্জুরুল হক।
অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন আর আইনি সুযোগ নেই। তিনি (শাম্মী আহমেদ) নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।’
এদিকে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা স্থগিত করে চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। ফলে তিনিও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবীরা। তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে প্রার্থিতা বাতিল করতে ইসিতে আবেদন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম। ১৫ ডিসেম্বর সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল করলে সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। পরে ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদনের পর ১৮ ডিসেম্বর আদালত তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে চেম্বার আদালতে আবেদনের পর আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়। আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্তের ফলে সাদিক আবদুল্লাহ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।’
এদিকে ফরিদপুর-৩ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। এ কে আজাদের পক্ষে আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ সপ্তাহে শুনানি নয় (নট দিস উইক) বলে আদেশ দেয়। শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। দ্বৈত নাগরিকত্বের এমন অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছিলেন এ কে আজাদ। ১৫ ডিসেম্বর শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। এরপর ইসির এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন শামীম হক। ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার আবেদনটি খারিজ করে দেয়। পরে হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেন শামীম। চেম্বার আদালত ১৯ ডিসেম্বর শামীমের পক্ষে আদেশ দেয়। পরে চেম্বার আদালতের এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে এ কে আজাদের পক্ষে ২১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। এ কে আজাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজীব উল আলম। শামীম হকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। শাহ মঞ্জুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই সপ্তাহে শুনানি হচ্ছে না। আগামী রবিবার নির্বাচন। এর মানে শামীম হকের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকছে না।’