দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। বন্দর দিয়ে পণ্য বাণিজ্য কমায় সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যাপক হারে কমে গেছে। ডলার সংকট, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে বন্দরটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা, খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। লোকসমাগম কমায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে বন্দরকেন্দ্রিক খাবার দোকানগুলোয়ও।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কিছুদিন আগেও গড়ে প্রতিদিন ১০০/১৫০ ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হতো। এসব পণ্য নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ট্রাক প্রবেশ করত বন্দরে। এতে করে বন্দরের ভেতরে যেমন কর্মচাঞ্চল্য থাকত, তেমনি মানুষের সমাগম থাকায় পুরো এলাকা জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করত। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয়-রোজগারও ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপক হারে কমে গেছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে করে কাজকর্ম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মরত শ্রমিকরা। বন্দর দিয়ে আগে গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হলেও এখন তা কমে গড়ে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টন পণ্য আমদানি হচ্ছে।
আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়েও। আগে বন্দর থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হলেও বর্তমানে তা কমে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি কমে যাওয়ার কারণে আমাদের কাজকর্ম একেবারে নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সংসার খরচ চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
মেহেদুল ইসলাম নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘বন্দরে কাজকর্ম কমে যাওয়ায় আমরা সংকটের মধ্যে পড়ে গেছি। দুই থেকে তিন দিন পর ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছি, যা যাতায়াতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর মূলত কাঁচামালের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি বন্দর। এই ধরনের পণ্যগুলোই এখান দিয়ে বেশি আমদানি হয়ে থাকে। এই বন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। মাঝে কিছুদিন আলু আমদানি হলেও অনুমতি না থাকায় এখন তা বন্ধ।’ তিনি বলেন, শুল্কায়ন-বৈষম্যও এই বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ার একটি কারণ। বেনাপোল দিয়ে যে মূল্যে পণ্য শুল্কায়ন করা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই একই পণ্য হিলিতে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়।