চট্টগ্রাম-১৫ 

কার দিকে ঝুঁকছে জামায়াত-শিবিরের বিশাল ভোট ব্যাংক?

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। এখানে মূলত আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। বর্তমান সাংসদ ড. আবু রেজা নিজাম উদ্দিন নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। তবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত। এখানে রয়েছে জামায়াতের বিশাল ভোট ব্যাংক। এ বিশাল ভোট ব্যাংকের অংশ যার দিকে যাবে সেই নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে অনেকে মনে করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সাংসদ নদভী বিগত ১০ বছর ধরে সাধারণ মানুষকে নানা হয়রানি করেছেন। সে কারণে এলাকার মানুষ নদভীকে এবার ভোট দেবে না। পাশাপাশি জামায়াত-শিবির কর্মী ভোট কেন্দ্রে গেলে তার সিংহভাগ ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেবের পক্ষে যাবে।

এম এ মোতালেবের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজ উদ্দিন বলেন, নদভী এবং তার পরিবারের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের ওপর মানুষ চরমভাবে ক্ষুদ্ধ। অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন চাঁদাবাজির একটা অংশ নদভীর কাছে যেত। তার অত্যাচার থেকে বাঁচতে অন্যদলের কর্মী-সমর্থক যদি ভোট কেন্দ্রে যায় তাহলে তারা অবশ্যই এম এ মোতালেবকে ভোট দেবে।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুচ্ছাফা চৌধুরী বলেন, সাংসদ নদভী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এলাকায় কাজ করেছেন। যদি জামায়াত-শিবিরের কোনো কর্মী-সমর্থক ভোট কেন্দ্রে যায়, তাহলে তারা নদভীকে বেছে নেবেন।

ড. নদভীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, সাতকানিয়া-এলাকায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তিনি মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপন করেননি। জামায়াত-শিবির যেহেতু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, সেহেতু তারা অবশ্য নদভীর মতো একজন আলেমকে ভোট দেবে।

তবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জামায়াতের শীর্ষ নেতা অধ্যাপক আসাদ উল্লাহ বলেন, জামায়াত এবারের ভোট বর্জন করেছে। জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী ভোট কেন্দ্রে যাবে না। তবে আত্মীয়তার সূত্রে বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ হয়তো ভোট দিতে পারে।