ভোটের দিনসহ ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে বিএনপি

ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও তার আগের দিন ৬ জানুয়ারি ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া আজ শুক্রবার সারা দেশে মিছিল, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘৬ জানুয়ারি শনিবার ভোর ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারি সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এ ছাড়া ৫ জানুয়ারি শুক্রবার মিছিল, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।’

ভোটের দিন হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগ, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমরা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে আন্দোলন করছি। ভোটের দিনই আমাদের কর্মসূচি শেষ হয়ে যাবে না। ভোট হয়ে গেলেও আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে। সরকার পদত্যাগ করলেই আমাদের কর্মসূচি বন্ধ হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার একটি একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই। তাই আমরা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে জনগণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছি। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদিনই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের সংঘর্ষের বলি যাতে জনগণ না হয়, সেজন্য আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছি, আপনারা ভোটের দিন ঘরে থাকুন। পরিবারকে সময় দিন।’

এর আগে ভোটের দিনের কর্মসূচি নির্ধারণে গত কয়েক দিন ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ ও জেলা নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান রাজপথের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন।

বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ১৮৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১১টি, আসামি করা হয়েছে ৯৩৮ জনের অধিক নেতাকর্মী (এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাত) এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জনের অধিক নেতাকর্মী। এ ছাড়া গত ২৮ জুলাই থেকে অদ্যাবধি বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ২৪ হাজার ৮৬২ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ১ হাজার ১৪১টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২২১ জনকে, আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৫৩৪ জনের অধিক নেতাকর্মী এবং মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের (১ জন সাংবাদিক)।

এদিকে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

এবি পার্টির কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ : আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) নেতাকর্মীরা স্থানীয় জনসাধারণ, দোকানি ও বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলরত মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিলি করেছেন। কর্মসূচি চলাকালে বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ পুরানা পল্টনের দিক থেকে খোলা ট্রাক ও ৮-১০টি মোটরসাইকেল সহযোগে এসে প্রচারপত্র বিলিরত কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, তারা কর্মীদের হাত থেকে প্রচারপত্র কেড়ে নেয় এবং সেগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় এবি পার্টির দুই কর্মী সোহাগ ও মশিউর আহত হন। ছাত্রলীগের এই অতর্কিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে কর্মসূচির সূচনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। এতে বক্তব্য দেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তাজুল ইসলাম, বিএম নাজমুল হক ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল প্রমুখ।

গত ২৮ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ প- হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর থেকে চার দফা হরতাল এবং ১৩ দফায় অবরোধ পালন করেছে বিএনপি। সর্বশেষ গত ১ জানুয়ারি ভোট বর্জন এবং অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুদিনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির ঘোষণা করে। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন দল ও জোটও পৃথকভাবে হরতাল-অবরোধ করে আসছে। গত ২০ ডিসেম্বর বিএনপি অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এরপর ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে জনগণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো।