কল্যাণপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটগ্রহণ শুরু

ঘড়ির কাটায় সকাল ৮টা ১০ মিনিট। ভোট দেওয়া শেষে গৃহিনী রাফিয়া আক্তার জানান, ভোট দিতে পেরে অনেক খুশি। ভোটের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো দেখছি।

ঢাকা-১৪ আসনের ভোটারের তালিকায় শীর্ষে থাকা কল্যাণপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। আসনটিতে ১৬৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ২১২, যারমধ্যে এই কেন্দ্রেই ভোটার রয়েছেন ২৮ হাজার ২৭৯ জন। এখানে নারী ১৫ হাজার ১৮৩, পুরুষ ১৩ হাজার ৯৫ ভোটারসহ একজন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন।

ঢাকা-১৪ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী ভোটের লড়াই হবে বলে আভাস দিয়েছেন সেখানকার ভোটাররা। অবশ্য স্বতন্ত্র দুজন প্রার্থীও আওয়ামী লীগেরই নেতা।

রাজধানীর মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রুপনগরের একাংশ ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা ১৪ আসন। এই আসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি ওয়ার্ড (৭ থেকে ১২) রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ২১২। এখানে ভোটারের তালিকায় শীর্ষে থাকা কল্যানপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ২৭৯ জন। এরমধ্যে নারী ১৫ হাজার ১৮৩, পুরুষ ১৩ হাজার ৯৫ ভোটারসহ একজন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন কেন্দ্রটিতে।

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাইনুল হোসেন খান (নিখিল)। তিনি আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। নিখিল এবারই প্রথম ভোটের টিকিট পেয়েছেন এ আসনে। ব্যক্তি ইমেজ এবং দলীয় প্রার্থীর কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

তার সঙ্গে একই দলের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তার তুহিন (ট্রাক) ও লুৎফর রহমান (কেটলি) এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে ধারণা পাওয়া গেছে।

ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি সাবিনা আক্তার। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তুহিনের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচণে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় ছিল তার নাম। আওয়ামী লীগের একাংশ ও যুব মহিলা লীগের সমর্থন পাচ্ছেন সাবিনা।

অন্যদিকে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও গাবতলী এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান একজন সিআইপি ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি মিরপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে একবার কাউন্সিলর হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। এই আসনে তার অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ ও অনেক জনপ্রতিনিধি লুৎফরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনএফের এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম (টেলিভিশন), জাসদের আবু হানিফ (মশাল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মাহবুব মোড়ল (আম), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ (একতারা), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আসিফ হোসেন (ছড়ি), জাতীয় পার্টির আলমাস উদ্দিন (লাঙ্গল) এবং তৃণমূল বিএনপির নাজমুল ইসলাম (সোনালী আঁশ)। এছাড়া স্বতন্ত্র অপর প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন—মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ (দালান), জেড আই রাসেল (ঈগল), মোহাম্মদ এমরুল কায়েস খান (রকেট) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাজী ফরিদুল হক (বাশি)।