ভোট উৎসব পালন করলেন যারা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। দেশের বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দলের একটি এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ভোটের আগেই ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ফলে ‘সিনিয়র’ ভোটাররা যারা এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন— তাদের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা কম দেখা গেছে।

তবে যারা এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ছিল তফশিল ঘোষণার পর থেকেই। প্রায় ১২ কোটি ভোটারের মধ্যে তরুণ ভোটারও (সংখ্যায় আড়াই কোটি) কম নয়। ভোট নিয়ে উৎসাহ ছিল তাদেরও। ম্যাড়মেড়ে জাতীয় নির্বাচন ‘ভোট উৎসব’ হিসেবে ধরা দিয়েছিল এদের কাছে।

ঢাকা-১৩ আসনের নতুন ভোটার তাহসান আহমেদ। এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায়। উৎসাহ নিয়ে সকালেই চলে এসেছেন তার ভোটকেন্দ্র মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে। ‘সিনিয়র’ ভোটারদের কাছে শুনেছেন সকালে ভিড় কম থাকে। তাই নিজের ভোটটা দিতে সকাল-সকাল চলে এসেছেন। ভোট দেওয়ার পর তার সঙ্গে আবার কথা হলো।

জানালেন, ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। সুষ্ঠুভাবে নিজের ভোট দিতে পেরেছেন। কিন্তু বিস্ময় প্রকাশ করলেন এই বলে— ‘ভিড় কখন হবে? কোনো ভিড় তো দেখতে পাচ্ছি না!’ পরে একই কেন্দ্রে সমবয়সী আরো কয়েকজন ভোট দিতে এলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

মোহাম্মদপুর থেকে আমরা চলে আসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে। এই ভোটকেন্দ্র ঢাকা-৮ আসনের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা এই কেন্দ্রের ভোটার। এখানে ভোট দিতে এসেছিলেন মোছা. সোনিয়া। তিনি ভোট দিতে একা আসতে পারেননি। সঙ্গে আনতে হয়েছে তার ছোট ছোট দুই মেয়েকেও।

তিনি জানান, প্রতিবেশীরা এখানে ভোট দিতে এসেছে। তাদের কাছে সন্তানদের রেখে ভোট দিতে ভোটকক্ষে ঢুকবেন তিনি। সমস্ত ভোটকেন্দ্র পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে আছে। সোনিয়ার সন্তানদের গলায় ঝুলছে তার পছন্দের প্রার্থীর ছবি সম্বলিত কার্ড। তারা মনের আনন্দে কার্জনের সবুজ চত্বরে খেলছিল। সব মিলিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ।

এরপর আমরা যাই কবি নজরুল কলেজ ভোটকেন্দ্রে। এটি ঢাকা-৪ আসনের অধীন। এখানে ঢুকতেই দেখা যায়, একটি পরিবার ভোট দিয়ে স্মৃতি হিসেবে সেলফি তুলছেন। ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার, ভোট দিয়ে সেলফি তোলা তাদের কাছে একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। সঙ্গে আছে ভোট দেয়ার চিহ্নস্বরূপ অমোচনীয় কালি সমেত আঙুলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা। বলা চলে, হইচই-হাঙ্গামাহীন পরিবেশে ভোটের মাঠে কিছুটা উৎসবের আমেজ এনেছে উৎসাহী ভোটারদের সেলফি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট দেওয়া বৃদ্ধাঙ্গুলির ছবি।