স্থবির অর্থনীতির প্রভাব পড়েনি অর্থমন্ত্রীর ভোটে

অর্থনীতির দায়ভার যার কাঁধে, তিনি অর্থনীতিতে এখন অনুপস্থিত। অর্থনীতির ডুবন্ত অবস্থায়ও তার দেখা মেলা ভার। শারীরিক নানান জটিলতা নিয়েও এবার আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে দেশের স্থবির অর্থনীতি তার জয়ের পথে কোনো বাধাই তৈরি করেনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পাওয়া ফল অনুযায়ী, মুস্তফা কামাল পেয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৯ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জোনাকী হুমায়ুন (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৪৮ ভোট। এ হিসাবে মুস্তফা কামাল প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার ভোটে জোনাকী হুমায়ুনকে পরাজিত করেছেন।

এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। এ ব্যবসায়ীর কমপক্ষে ১৫টি শিল্পকারখানা ছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে অধিকাংশ কারখানা বিক্রি করেন তিনি।

১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্ট্যান্সি ও আইন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। লোটাস কামাল ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্সি (সিএ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। কলেজ জীবনের পুরো সময়ই তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের একজন বিশিষ্ট সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ (পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা-১০) নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাকাত বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন।

২০০৬ সালের ১২ মে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ এই সময়কালে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।