অস্থির বাজারেও ফের জয়ী টিপু মুনশি

পোশাক ব্যবসায়ী থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী হওয়া টিপু মুনশি সহজেই জিতলেন। এবারের নির্বাচনে তার শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। জয়টা ছিল অনেকটা অনুমেয়ই। রংপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকের প্রার্থী টিপু মুনশি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৮৯৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল পেয়েছেন ৪১ হাজার ১২৫ ভোট। অন্য প্রার্থী বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সিরাজুল ইসলাম ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১০৫ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল রবিবার সকাল ৮টায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। টিপু মুনশির আসনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৯৭৭টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হয়।

শিল্পপতি টিপু মুনশি পাঁচ দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় জোয়ারসাহারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন সরকারি জিন্নাহ কলেজ (বর্তমান তিতুমীর কলেজ) ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করেন।

১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের তেজগাঁও উত্তরাঞ্চলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে  রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯৮ সালে তিনি বিজিএমইএর সহসভাপতি, ২০০৫-০৬ মেয়াদে বিজিএমইএর সভাপতি ও বর্তমানে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদের যৌথ কমিটির প্রেসিডেনশিয়াল সভাপতি। তিনি সিপাল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও অ্যাপোলো হাসপাতাল ঢাকার হোল্ডিং সংস্থা এসটিএস গ্রুপের পরিচালক।

২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে তিনি শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।