ধরাশায়ী অনেক হেভিওয়েট

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেছেন কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। যাদের নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের মাঠে টিকতে পারেননি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হারতে হয়েছে তাদের। এ তালিকায় রয়েছেন রাজশাহী-২ আসনের বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা, হবিগঞ্জ-৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, মানিকগঞ্জ-২ আসনের কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, কুষ্টিয়া-২ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসানুল হক ইনু, ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নৌকার প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহ। এ ছাড়া সিলেট-৬ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

রাজশাহী-২ আসনে হেরে গেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার কাছে তিনি ২৩ হাজার ৭১৮টি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশা কাঁচি প্রতীকে ৫৬ হাজার ১৪১টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফজলে হোসেন বাদশা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪২৩টি ভোট। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে ফজলে হোসেন বাদশা জিতলেও এবার তিনি হারের মুখ দেখলেন।

এদিকে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। এ আসনে ১৭৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ব্যারিস্টার সুমন পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ভোট এবং আর মাহবুব আলী পেয়েছেন ৪৭ হাজার ভোট।

মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহিদ আহমেদ টুলু (ট্রাক) প্রতীকের কাছে হেরে গেছেন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামারুল আরেফিনের কাছে হেরেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসানুল হক ইনু। ১৪-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ভোটে অংশ নেন। তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৩১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন ৪১ হাজার ২৮২ ভোট।

এদিকে সিলেট-৬ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরী। আসনটিতে ১৬ হাজার ৪৮৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৯০ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৮ ভোট।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নৌকার প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহকে হারিয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও কৃষ্ণপুর) আসনে এবারও জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। কাজী জাফর উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬ ভোট। অন্যদিকে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫ ভোট।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, গামছা প্রতীক নিয়ে ৬৭ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।