পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা শহরে অবস্থিত সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে গতকাল ৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মুন্সী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার ভেদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সমর্থক। আর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবর ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল বাসারের সমর্থক বলে জানা যায়।
গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন প্রান্ত মাদবরের সঙ্গে সৈয়দ আবু জাফর আশিক বাকবিতন্ডায় জরায়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। গতকাল রবিবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে ছিল আশিক, শাহাজাদা ও মোরসালিন। রাত ৯টার দিকে প্রান্ত মাদবরসহ ২৫/২৬ জন লোক উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকে হঠাৎ হামলা চালায়। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আশিক, শাহাজাদা ও মোরসালিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে প্রান্ত ও তার দল। স্থানীয়রা আহতদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী, সজীব ওয়াজেদ জয়, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ছবি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া চেয়ার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে আহত সৈয়দ আবু জাফর আশিক বাদী হয়ে প্রান্ত মাদবরসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সরকারি এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আহত সৈয়দ আবু জাফর আশিক বলেন, আমার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা, সাংগঠনিক মোরসালিন ও আমি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে গল্প করছিলাম। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ প্রান্ত মাদবরসহ ২৫/২৬ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় প্রান্ত আমাদের মাথায় রিভলবার তাক করে রাখে। শাহাজাদা, মোরসালিনসহ আমাকে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ছবি ভাঙচুর করে। চেয়ার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে। হামলাকারীরাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভেদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, প্রান্ত মাদবর, শুভ বেপারীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আমাদের তিন ছাত্রলীগের নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। সাবেক মেয়র আবুল বাসারের বাড়ি থেকে প্রান্ত মাদবর দলবল নিয়ে এসে এই হামলাটি চালিয়েছে। তারা নব্য আওয়ামী লীগের লোক।
তবে এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল বাসার বলেন, গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ ঝগড়া হয়। তারই জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা আওয়ামী লীগ পরিবারের। দুই পক্ষই আমাদের। সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদার আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। আমার কেউ এ ঘটনায় জড়িত না। যারা অপরাধী, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রাশেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, খুবই দুঃখজনক। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। এখনও মামলা হয়নি। আইনত কিছু প্রক্রিয়া আছে, তদন্ত চলছে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।