আ.লীগের শোচনীয় নৈতিক পরাজয় হয়েছে : মঈন খান

আবারও প্রমাণ হয়েছে দেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না বলে মনে করে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘ভোট বর্জন করে সরকার ও তাদের নির্বাচন যে ভুয়া, তা জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে। এই নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারকে বলা যায় “অব দ্য ডামি, বাই দ্য ডামি, ফর দ্য ডামি”।’

গতকাল সোমবার রাজধানী গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঈন খান এসব কথা বলেন। তিনি মনে করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শোচনীয় নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের এক দফা দাবিতে বিএনপির আন্দোলন চলবে বলে জানান মঈন খান। দাবির পক্ষে জনমত তৈরিতে দুই দিনের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন মঈন খান। 

আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) মঙ্গল ও বুধবার সরকারের বিদায়ের আহ্বানে আমাদের গণসংযোগ চলবে। লিফলেট বিতরণ ও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব। সরকারকে ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য দাবি করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা ডামি প্রার্থী দিয়ে কৃত্রিম প্রতিযোগিতা করেও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে পারেননি। ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার ও ডামি পর্যবেক্ষক দিয়ে সরকার যে ডামি নির্বাচন করেছে তা সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। ভোটারশূন্য ভোটকেন্দ্রে ডামি ভোটারদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটের ঘোষণা মিথ্যা প্রকাশ হয়ে গেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের বক্তব্যে। কারণ ইসি সচিবের কানে কানে শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্যই দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।’

তাহলে শতকরা কতভাগ ভোট পড়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, ‘সরকার যে সংখ্যা বলে  দেবে কমিশন তাই বলবে। সে ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট দেখানো অর্থহীন ফিগার। ভোটের অনিয়মের পর ৪০ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ৪ থেকে ৫টা কেন্দ্রে নির্বাচন বন্ধ করে ইসি তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করেছ, এটা হাস্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রমাণ হয়েছে মেরুদ-হীন ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

নতুন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সরকারকে বিদায় নিতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতি করে না। কারও গায়ে হাত দেয় না।’

এর আগে গত রবিবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান।