‘কথা বলার অবস্থায় নেই’ রশিদ খানের মৃত্যুতে অজয় চক্রবর্তী

প্রয়াত উস্তাদ রশিদ খান। মাত্র ৫৬ বছরেই থেমে গেল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক বিরল, উদাত্ত কণ্ঠস্বর। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি)  বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুসংবাদ শুনে বাকরুদ্ধ সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তী।

এদিন দুপুরে মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফিরেই অনুজ রশিদ খানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তার মন ভারাক্রান্ত। বললেন, ‘আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। শব্দ হারিয়ে ফেলছি।’

বিগত এক মাস ধরেই রশিদ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছিলেন তিনি। হতাশ কণ্ঠে অজয় চক্রবর্তী বললেন, ‘ও তো আমার হাতেই তৈরি। চলে যাওয়ার বয়স তো এটা নয়। দেশের সঙ্গীত জগৎ এক গুণী শিল্পীকে হারাল।’

অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রশিদ খান আমার মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা আমি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারব না।’ 

দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত রশিদ খান। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। রাইস টিউবের মাধ্যমে খাবার খাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এদিন সকালে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।

এক নজরে উস্তাদ রশিদ খান

রশিদ খানের জন্ম উত্তরপ্রদেশের বদায়ুতে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সঙ্গীত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। উস্তাদ গুলাম মুস্তাফা খানের ভাইপো তিনি। চাচাই প্রথম শিল্পীকে মুম্বাই নিয়ে যান। সেখানে গানের তালিম নেন রশিদ খান। এরপর উস্তাদ নিসার হুসেন খানের কাছে বাড়িতেই গানের তালিম নেন।

ইনায়েত হুসেন খাঁ-সাহিব যে ঘরানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই রামপুর-সাসওয়ান ঘরানার শিল্পী রশিদ খান। মূলত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গাইলেও ফিউশন বা বলিউড এবং টলিউডের ছবিতে বহু জনপ্রিয় গানও গেয়েছেন শিল্পী। ‘যব উই মেট’, ‘কিসনা’, ‘হাম দিল দে চুকে সনম’, ‘মাই নেম ইজ খান’র মতো বলিউড ছবির পাশাপাশি ‘মিতিন মাসি’, ‘বাপি বাড়ি যা’, ‘কাদম্বরী’র মতো বাংলা ছবিতেও রয়েছে তার গান।