জাতীয় নির্বাচনের পর পুঁজিবাজার চাঙ্গা হবে এমন প্রত্যাশা যেসব বিনিয়োগকারী করেছিলেন, গতকালের চিত্রে তারা কিছুটা হতাশ। নির্বাচনের পরদিন গত সোমবার বাজারে কিছুটা উল্লম্ফন দেখা দিলেও দ্বিতীয় দিনে পুরনো চেহারায় হাজির হয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সূচক কমে গেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও তা এখনো ৫০০ কোটি নিচে রয়ে গেছে।
ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার মধ্যেও নির্বাচনের পরদিন গত সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়েছিল। ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার মধ্যে এমন বৃদ্ধিকে উল্লম্ফন হিসেবেই দেখেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘদিন পর সেদিন বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারের দামও বেড়েছিল। এতে কিছুটা আশান্বিত হয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, ফ্লোর প্রাইস ভেঙে শেয়ারগুলো একে একে লেনদেনযোগ্য হবে, পূর্ণ গতি পাবে পুঁজিবাজার। তবে বাজারের যে শক্তি নেই, তা গতকালই প্রমাণ হয়েছে। এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই সাইডলাইনে রয়ে গেছেন। ফলে ক্রেতা কম থাকায় নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, বিপরীতে কমেছে ১১০টির। অন্যদিকে ১৮৩টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে। ফ্লোর প্রাইসে থাকা এসব শেয়ার দীর্ঘদিন ধরেই লেনদেন হচ্ছে না, যার মধ্যে অধিকাংশই মৌলভিত্তির। বেশিরভাগ শেয়ার লেনদেন না হওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ও কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকাররা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পক্ষে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় চাপ তৈরি করছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ক্ষতির শঙ্কায় এখনই ফ্লোর প্রাইস তুলতে চাইছেন না এসইসির চেয়ারম্যান। তবে বাজার অনুকূলে এলে ধীরে ধীরে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিনের মতো গতকালও ৯টি ব্যাংকের শেয়ারের দরে ওঠানামা লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে ৬টির দর বেড়েছে, ৩টির দর কমেছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকের বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, বস্ত্র ও বিবিধ খাতের দর সামান্য বেড়েছে। বিপরীতে বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ড, ট্যানারি, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের দর কিছুটা কমেছে, যা সূচক কমাতে ভূমিকা রেখেছে। গতকাল ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গতকালও দরবৃদ্ধির তালিকায় দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির প্রাধান্য দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে লোকসানি ইউনিয়ন ক্যাপিটালের, ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। লোকসানি ও বন্ধ কোম্পানি খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আরামিট সিমেন্ট, ইটিএল, মাইডাস ফাইন্যান্স ও আনলিমা ইয়ার্নের দর বেড়েছে সাড়ে ৭ থেকে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ডসহ লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দর হারানোর শীর্ষ তালিকায় রয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৪ কোটি টাকা বেশি। সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে সম্প্রতি কারসাজি চলতে থাকা বিডি থাইয়ের শেয়ার থেকে। গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারের ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।