চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের জন্য সিডিএর অনুমোদন নিতে হয়। আবেদনের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্মাণ অনুমোদনপত্র পেয়ে থাকেন আবেদনকারীরা। এই অনুমোদনের জন্য সিডিএ ইমারত নির্মাণ কমিটির মাসে দুটি সভা হয়, সেখানে ভবন নির্মাণের অনুমোদন মেলে। কিন্তু দুই মাস ধরে সিডিএতে ইমারত নির্মাণ কমিটির মিটিং হচ্ছে না। এ কারণে প্রায় ৫৫০টি ফাইল পড়ে আছে অনুমোদনের অপেক্ষায়। জানা গেছে, কর্মকর্তাদের মধ্যে জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বে সভা হচ্ছে না।
সিডিএতে গত ৭ নভেম্বর অথরাইজড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয় নতুন দুই প্রকৌশলীকে। অথরাইজড অফিসার-১ হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী এ জি এম সেলিম ও সহকারী অথরাইজড অফিসার তানজিব হোসেনকে অথরাইজড অফিসার-২ হিসেবে পদায়ন করা হয়। অথরাইজড অফিসার হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন আকারে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করার বিধান
থাকলেও এই পদায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে করা হয়। কিন্তু বিধিমালা অনুযায়ী অথরাইজড অফিসার একটি গেজেটেড পদ। এজিএম সেলিম এই পদে গত ৮ নভেম্বর যোগ দেওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ইমারত নির্মাণ কমিটির কোনো মিটিং করেননি। পদাধিকার বলে তিনি এই কমিটির সদস্য সচিব এবং চেয়ারম্যান হলেন উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ।
মিটিং না করার বিষয়ে অথরাইজড অফিসার-১ এজিএম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তিনি আমার জুনিয়র। একজন জুনিয়রের অধীনে তো আমি মিটিং করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি সুরাহার জন্য আমি যোগ দেওয়ার পরপরই মৌখিকভাবে সিডিএ চেয়ারম্যান ও সচিবকে অবহিত করেছি। পরে গত ১৪ ডিসেম্বর লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে বলা হয়েছে নতুন ইমারত নির্মাণ কমিটি প্রস্তাবনা করার জন্য।’
এ বিষয়ে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ও উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী অথরাইজড অফিসার-১ প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখ মিটিং আহ্বান করবেন। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে এবং কমিটির অন্য সদস্যরা মিটিংয়ে উপস্থিত হবেন। এখন সদস্য সচিব (অথরাইজড অফিসার-১) নিজেই তো মিটিং আহ্বান করছেন না।’
আবু ঈসা আনসারী বলেন, ‘কমিটির চেয়ারম্যান একটি পদ ব্যক্তি নয়। পদাধিকার বলে আমি ওই কমিটির চেয়ারম্যান। আর এই কমিটি সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে প্রকাশিত। এ ছাড়া ২০১৩ সালের দিকে তিনি (এজিএম সেলিম) এই কমিটির অধীনে অথরাইজড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’
এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘সিডিএ চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতাবলে ইমারত নির্মাণ কমিটি পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে পারেন। পরিবর্তিত বা পরিমার্জিত কমিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যম হয়ে অনুমোদনের আগ পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী আগের কমিটি মেনে চলার বিধান রয়েছে।’
আগের কমিটি মেনে চলার বিষয়ে এজিএম সেলিম বলেন, ‘আগের কমিটি কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিবর্তন করতে পারে। আর আমি সিনিয়র, জুনিয়রের অধীনে কাজ করা সম্ভব নয়।’
সিডিএর ইমারত নির্মাণ অনুমোদনের জন্য ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবেদা আকতার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সিডিএতে দুটি (ইমারত নির্মাণ কমিটি-১ ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২) ইমারত নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদকে। এ ছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন দুই অথরাইজড অফিসার এবং সদস্য হিসেবে নগর-পরিকল্পনাবিদ, সিনিয়র আর্কিটেক্ট, নির্বাহী প্রকৌশলীরা রয়েছেন। এই উভয় কমিটি ১৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বছরে গড়ে চার হাজার ভবনের নির্মাণ অনুমোদন দিয়ে এসেছে।