বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে ইইউ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এ নির্বাচনে সব প্রধান দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা।

গত মঙ্গলবার ইইউর পক্ষে সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, “ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ‘জিএসপি প্লাস’ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাওয়াসহ রাজনৈতিক, মানবাধিকার, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে চিহ্নিত করে এমন অগ্রাধিকার নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইইউ নির্বাচনকালে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে। ইইউ রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানকে সম্মান করতে এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সব অংশীজনকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে।

ইইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ‘সেন্সরশিপ’ বা প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

এতে আরও বলা হয়েছে, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে এ সময়কালে এবং তার পরও সম্মান করা এবং সমুন্নত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইইউ তার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশনের আসন্ন প্রতিবেদন এবং সুপারিশগুলো প্রকাশ করার জন্য জন্য কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতাকে স্বাগত জানায়। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একই চেতনায় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের প্রতি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সময়মতো এবং পূর্ণ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নির্বাচনে সব অংশীজন অর্থপূর্ণ ও প্রকৃতভাবে অংশ নিতে পারেনি : অস্ট্রেলিয়া

মানবাধিকার ও আইনের শাসনের সুরক্ষায় কাজ করা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার মনে করে, এমন এক পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে, যেখানে সবপক্ষ অর্থপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্যভাবে অংশ নিতে পারেনি তা দুঃখজনক।

গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে গত রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলীয় সরকার এ বিবৃতিটি দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে লাখ লাখ ভোটার নির্বাচনের দিন ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়। তবে এতে নির্বাচন নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে সহিংসতা এবং বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের মতো যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া উদ্বিগ্ন। অস্ট্রেলিয়া ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।’

ওই বিবৃতিতে নিজেদের বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উন্মুক্ত, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যাপারে দুই দেশের যে অভিন্ন লক্ষ্য আছে, তা অর্জনে কাজ করতে অস্ট্রেলিয়া বদ্ধপরিকর।

সুষ্ঠু হয়নি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দিন : উইলিয়াম বি মাইলাম

বাংলাদেশে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নাগরিকদের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তাদের বেশিরভাগই নির্বাচনের দিন ঘরে থাকার সুযোগ বেছে নিয়েছেন। যদিও এর উল্টো দাবি করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম বি মাইলাম। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন নিয়ে আমরা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম, তাই সত্য হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যরা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে মূল্যায়ন করেছে।

উইলিয়াম বি মাইলাম এই বিবৃতি দিয়েছেন ৯ জানুয়ারি। এতে তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় তা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে পারবে না। এ বিষয়টি মাথায় রেখে নির্দলীয় একটি সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা। একই সঙ্গে যেসব দেশ এ নির্বাচনকে ‘অবাধ নয়’ হিসেবে দেখে, তাদেরও একই আহ্বান জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।