সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে নৌকার টিকিট পেয়েও বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন দুই বারের সাংসদ ড. আবু রেজা নিজাম উদ্দিন নদভী। তিনি ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম মোতালেবের কাছে ভোট যুদ্ধে হেরেছেন। নৌকার প্রার্থী নদভী হেরে যাওয়ার নেপথ্যে ছিল মূলত তিন কারণ। তা হলো— দলের প্রতি অবহেলা, স্বজনপ্রীতি ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে সংঘটিত নানা দুর্নীতি।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে উপজেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না। কতিপয় সুবিধাবাদী নেতাকর্মী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার আমলে সরকারী টিআর, কাবিখা, সৌর বিদ্যুৎ ও গভীর নলকূপ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এলাকায় বিভিন্নভাবে তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি করেছে। এ কারণে সাধারণ ভোটার নদভীর ওপর একেবারে নাখোশ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেবের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজ উদ্দিন জানান, নদভী এবং তার আত্মীয়-স্বজন, নদভীর একান্ত সহকারী (পি এস) মিলে বিগত দশ বছর নানা অপকর্ম করেছে। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অবৈধ বালু ব্যবসা, মাটির সিন্ডিকেট, বিভিন্ন বনিক সমিতির চাঁদা, অবৈধ দখল বাণিজ্য, সিএনজি ও বাস স্টেশনসহ প্রত্যেক সেক্টরে সাংসদের অনুসারীরা চাঁদাবাজি করেছে। ফলে ক্ষতির স্বীকার কোন ভুক্তভোগী নদভী কারণে সুবিচার পাননি।
এবারের নির্বাচনে নদভীর অনুসারী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নদভীর পরাজয়ের মূল কারণ দলের সাথে দূরত্ব। তার কিছু অনুসারী সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় নানা অপকর্ম করেছে যা তিনি হয়তো সঠিকভাবে দেখেননি। পাশাপাশি নদভীর আচার আচরণে ছিলো প্রচণ্ড দাম্ভিকতা।
নদভীর স্ত্রী ও তার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক রিজিয়া রেজা চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজ আইডিতে মন্তব্যে জানান, সাংসদ নদভী বিগত ১০ বছর নৌকাকে সাধারণ মানুষের প্রতীকে পরিণত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ভোট কেন্দ্রে অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা এবং সন্ত্রাসের কারণেই মূলত নৌকার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।