সনদ বাণিজ্যে টনক নড়েছে নাইজেরিয়ার

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতে ৪৩টি ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৮টি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাতে পড়ছে অসংখ্য তরুণ-তরুণী। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলোই জড়িত সনদ বাণিজ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনোটিতে চার বছরের ডিগ্রির সনদ মিলছে মাত্র এক সপ্তাহেই। সম্প্রতি নাইজেরিয়ান সাংবাদিক উমর আউদু দেশটিতে ভুয়া সনদের ছড়াছড়ির বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তার প্রতিবেদন প্রকাশের পর মূলত টনক নড়ে সরকারের। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে উমর আউদু বলেন, ভুয়া সনদের বিষয়টি নাইজেরিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনি অনেক তরুণকে পাবেন যারা ডিগ্রি পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

উমর জানান, বিষয়টির তদন্ত করতে গিয়ে তিনি ছদ্মবেশে একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সিন্ডিকেট তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিবেশি দেশ বেনিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে গণযোগাযোগের একটি ব্যাচেলর ডিগ্রির সনদ জোগাড় করে দেয়। ওই সনদ নিয়ে তরুণদের জন্য নাইজেরিয়া সরকারের ন্যাশনাল ইয়ুথ সার্ভিস ক্রপস স্কিমের আওতায় একটি বাধ্যতামূলক কোর্সে ভর্তি হতেও উমরের কোনো অসুবিধা হয়নি।

উমর বলছেন, এই ধরনের কার্যত্রম বন্ধ করার চেষ্টা করে সরকার সঠিক কাজ করেছে। এমন কার্যক্রম চলতে দেওয়া উচিত হবে না। আর এভাবে সনদ পাওয়ার বিষয়টি মূলত যারা শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন তাদের প্রতি অবিচার করা হয়।

উমরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে নাইজেরিয়া সরকার। এরই মধ্যে বেনিন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশটিতে নিষিদ্ধ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সনদ গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ ছাড়া ঘানা, কেনিয়া, উগান্ডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রিও নিষিদ্ধ করতে পারে নাইজেরিয়া সরকার।

নাইজেরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইব্রাহিম শাতাম্বা বলেন, ভুয়া সনদের এমন ছড়াছড়ি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এবং উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত কয়েক বছর ধরে কি হয়েছে, কীভাবে এই বিশ্বিদ্যালয়গুলো এমন সুবিধা নিয়েছে, এ বিষয়টিই প্রমাণ করছে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অযোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, যারা এভাবে ফাঁকি দিয়ে ডিগ্রি অর্জন করে, চাকরি জীবনে দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতার ঘাটতি থাকে।