বর্তমান বিশ্বে মেডিকেল শিক্ষায় যেসব দেশ শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের, তার মধ্যে কিরগিজস্তান অন্যতম। দেশের মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে না পারে তাদের জন্য কিরগিজস্তান অন্যতম একটা পছন্দের দেশ। প্রতিটি মেডিকেলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা যত্ন নেওয়া হয়। তা ছাড়া কিরগিজস্তানকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বলা হয়। কিরগিজস্তানে রয়েছে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যম-িত বৈচিত্র্য এবং এখানে খন্ডকালীন কাজ এবং সহজেই ভিসা পাওয়ার সুযোগ। কিরগিজস্তানে মেডিকেল শিক্ষার পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়েও এখন অনেক শিক্ষার্থী আসছে। কিরগিজস্তানের মেডিকেল শিক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার
বাংলাদেশের বগুড়া জেলার ছেলে মো. আদিত্য রায়হান চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই প্রবল ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভর্তি হতে পারেননি তাই দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার কথা চিন্তা না করেই দেশের বাইরে গিয়ে এমবিবিএস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিরগিজস্তানে তুলনামূলকভাবে খরচ কম ও ভিসার জটিলতা কম থাকায় পছন্দের তালিকা থেকে কিরগিজস্তানকে বেছে নেন। কারণ অন্য দেশ যেখানে ৬-৭ বছর সময় নেয় ডক্টর অব মেডিসিন শেষ করতে, সেখানে কিরগিজস্তানে ৫ বছরেই ডিগ্রি সম্পূর্ণ এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা : কিরগিজস্তানে ডক্টর অব মেডিসিন করতে চাইলে সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৯.০ পয়েন্ট থাকতে হবে, পাশাপাশি বাংলাদেশের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে বিএমডিসি সার্টিফিকেট আনতে হবে, যাতে পরবর্তী সময় দেশে গিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দেশে চিকিৎসার জন্য লাইসেন্স পেতে পারে। বাংলাদেশের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক ইলিজিবিলিটি সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না আর ইলিজিবিলিটি সার্টিফিকেট না থাকলে ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশে গিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে পারবেন না আর বাংলাদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন না।
ভাষা : কিরগিজস্তানের জাতীয় ভাষা কিরগিজ ভাষা। কিন্তু কিরগিজস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ রাশিয়ান ভাষায় কথা বলে। মূলত কিরগিজস্তান ছিল স্টেট অব সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ, তাই তাদের জাতীয় ভাষা থাকার পরও রুশ ভাষার প্রাধান্য বেশি। কিরগিজস্তানের প্রধান ভাষা রুশ আর এদের দ্বিতীয় ভাষা হলো ইংরেজি। এখানে লেখাপড়া করতে গেলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর রুশ ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটু বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, মানিয়ে নিতে দেরি হয় না।
খ-কালীন কাজের সুযোগ : কিরগিজস্তানে চাকরি বা খন্ডকালীন কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। প্রতি রবিবার বা ছুটির দিনে অনেক শিক্ষার্থী খ-কালীন কাজ করে। শুদ্ধভাবে রুশ ভাষা জানার ফলে প্রতি সপ্তাহে খন্ডকালীন কাজের এই সুযোগ পান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ দেওয়া হয় কিন্তু লেখাপড়ার ক্ষতি করে কেউ কাজ করে না। বিশ্বের অন্য যে কোনো উন্নত দেশের মতো কিরগিজস্তানে প্রতি দিনের পে-রেট বা বেতনের হার তুলনামূলক বেশি এবং প্রতিদিন পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া : কিরগিজস্তানে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও কম সময়সাপেক্ষ। আবেদন করতে হলে যে কোনো শিক্ষার্থীর মাধ্যমে করতে হবে অথবা বাংলাদেশের কিছু অনুমোদিত এজেন্সি আছে, যাদের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সনদ, পাসপোর্টের স্ক্যান কপি ও পাসপোর্ট আকারের ছবি যুক্ত করতে হয়। ২-৭ কর্মদিবসের মধ্যে অফার লেটার পেয়ে যায় প্রতিটি শিক্ষার্থী। প্রত্যেক বছরের ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বর দুটি সেশন হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদান করে থাকে ভার্সিটিগুলো। অগ্রিম কোনো টাকা দিতে হয় না, কারণ প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজের টাকা নিজে এসে পরিশোধ করতে পারে, যাতে করে কোনোভাবেই কেউ প্রতারিত না হয়।
নতুনদের জন্য পরামর্শ : নতুনদের জন্য পরামর্শ দিতে গিয়ে আদিত্য জানান, কিরগিজস্তানে ডক্টর অব মেডিসিন করতে অন্য দেশের মতো বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। আবার টিউশন ফি নিজ থেকে দিতে গেলে এ দেশে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাই কিরগিজস্তানে আসার আগে মানসিকভাবে সেই প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। যে কোনো কিছুর আগে রুশ ভাষা, রেস্টুরেন্টের কাজ ও ড্রাইভিং শিখে আসা ভালো। এ ছাড়া আইটি স্কিল ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে সহায়ক হয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য।