বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেব

বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে বেশি জোর দেওয়া হবে। ডলার সংকটের এ মুহূর্তে পাইপলাইনে অনেক প্রকল্প রয়েছে। বিদেশি ঋণের প্রকল্পগুলোতে আমি জোর দিতে আগ্রহী। কারণ টাকা আসা দরকার, প্রকল্পগুলো যাতে বিলম্বিত না হয়।

আজ রবিবার (১৪ জানুয়ারি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এসব কথা বলেন নতুন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম।

মন্ত্রী বলেন, সবাই চায় প্রকল্প বিলম্ব হোক। আমি চাচ্ছি সেটা না হোক। যত বেশি বাস্তবায়ন হবে, যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে- পাইপলাইনের টাকা তত বেশি ছাড় হবে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমি খুব বেশি গ্রামীণ অবকাঠামোতে জোর দিতে চাই। গ্রামীণ যোগাযোগ আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বাইরের বিনিয়োগ হলেও আমরা সেটা অর্জন করার চেষ্টা করব। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যাপক আকারে নেয়ার চেষ্টা করব।

আব্দুস সালাম বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনেক অভাব ও অনিয়ম রয়েছে। এসবের বেশির ভাগই সমাধানযোগ্য। ডাক্তাররা এলাকায় থাকতে হয়, তারা যদি রোগী না দেখেন তাহলে কিভাবে হয়?

আজকে প্রথম দিনে এসেছি। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যদের কথা শুনেছি। একটা প্রাথমিক ব্রিফিংয়ের মতো হয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের অর্গানোগ্রাম সম্পর্কে জানতে-দেখতে হবে। বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে আলাদা করে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারব। ফলে এ নিয়ে খুব বেশি কিছু বলা যাবে না।

তবে যতটুকু বুঝলাম, তা হলো আমাদের পাইপলাইনে অনেক প্রকল্প রয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে, অন্যান্য প্রকল্প আছে। কথা বলে বুঝলাম, যেকোনো কারণেই হোক প্রকল্পে বিলম্ব হয়। যাই হোক, আমি চাচ্ছি সেটা না হোক। যত বেশি ও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তত দ্রুত পাইপলাইনে টাকাগুলো আমাদের কাছে আসবে। বিশেষ করে বিদেশি অর্থায়নগুলো আসবে। সে হিসেবে আমি এটিকে অগ্রাধিকার বলে মনে করি।

আমি দেখতে চাই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধাটা কোথায়। সে বাধা আমি সরিয়ে দেব। এটা বিশ্বাস রাখেন। বাধা হতে দেব না আমি। এখানে কোনো ছাড় নাই। আপস করার কোনো সুযোগ নেই বাধা সরানোর জন্য। আমি আসছি, সে কাজটি করব। সে যে পর্যায়েই হোক। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন।

আর দুটো বিষয় আলাপ করেছি তাদের সঙ্গে। এক, আমাদের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা (কানেকটিভিটি) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব দিয়েছি সেটা আমি জানি না, কথা বলতে চাই না। তবে আমি গুরুত্ব দিতে চাইব। যারা এ সমস্ত প্রকল্পে অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হলেও আমি সেটা পেতে চেষ্টা করব। বিশেষ বড় করে ব্যাপক আকারে সেটা আমি নিতে চাইব। যাতে গ্রাম থেকে পাকা সড়কে শহরে আসতে পারে। পণ্য পরিবহন করতে পারে। যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে। যেখান থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। সে এলাকা আমি খুব ভালো করে জানি। পায়ে হেঁটে প্রতিটা গ্রামে গিয়েছি, দেখেছি। আমি মনে করি দেশের প্রতিটা গ্রামই এমনই, কিছুটা উনিশ–বিশ হতে পারে। এখানে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। এটাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেটা কীভাবে দেওয়া হবে সেটা উনাদের সঙ্গে কথা বলে স্থির করা হবে।

আরেকটা বিষয়— আমি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ জোর দিতে চাইব। আমাদের যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আছেন, উনি গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সভায় কথাগুলো বলেছেন। স্বাস্থ্য খাতে অনেক ধরনের অভাব ও অভিযোগ রয়েছে। এর বেশির ভাগই সমাধানযোগ্য যদি আমরা সেটা সমাধান করতে ইচ্ছা করি, চেষ্টা করি। যেমন, ডাক্তারদের অ্যালার্ট থাকতে হবে। তারা যদি অ্যালার্ট না থাকেন, রোগী না দেখেন তাহলে কেমনে হবে। তার উপস্থিতিতেই একটা এলাকার জন্য বিরাট অর্জন। ওষুধ যদি নাও পায়, চিকিৎসাপত্র পেলেও সে চিকিৎসা করাতে পারে। ওষুধ না থাকার বিষয়টিও আমরা দেখতে চাই। কেন ওষুধ কী আমাদের অপচায় হয়, না সরবরাহ কম— এসব বিষয় দেখতে হবে। কারণ, গ্রামের মানুষের চিকিৎসার বিষয়টা খুবই কষ্টদায়ক। এটা ঠিক না। এটা আমি চাচ্ছি একটা পরিবর্তন আনতে যাতে একটা রেসপনসিবিলিটি তৈরি হয়। এটা দিয়ে একটা উদাহরণ দিলাম। প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

নির্বাচনে আমার একটা এলাকার কর্মীকে প্রতিপক্ষ আঘাত করায় তার মাথা ফেটে গেছে। আমি তাকে বলা হয়েছে ঢাকা পাঠানো হয়েছে, উপজেলায় রাখেইনি। এই সময়টাতে রোগীর অনেক ক্ষতি হয়। এটা যদি কিছুটা স্থানীয়ভাবে আমরা ম্যানেজ করতে পারি— তাহলে এ কষ্টটা হয় না। সরকারি মেডিকেল থেকে বলা হয়েছে, এখানে হবে না বেসরকারি হাসপাতালে যাও। পরে সিএমইচে কথা বলে পাঠালাম।

তিন. দুর্নীতি। বিদ্যুৎ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ নেটওয়ার্ক। কোম্পানির বিদ্যুৎ নাই। কারণ এখানে দুর্নীতিও হয়। অনেকে টাকা নেয় মিটারের জন্য। এ ধরনের অনেক সমস্যা আছে। এগুলো যাতে কমিয়ে আনা যায়, তার চেষ্টা করব। গ্রামীণ উন্নয়ন যদি করতে পারি, তাহলে আমার বিশ্বাস দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে যাবে। মানুষ যদি স্থিতিশীল হয়, নিজের এলকায় কাজ পায়, তাহলে সে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে যাবে না। আমি চেষ্টা করব— এসব বিষয় সামনে রেখে পরিকল্পনা কমিশনে যেখানে যে বিষয় শুরু করা যায় তা করার।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি এটা পালনের চেষ্টা করব। আমি বলছি না আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। সবাইকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। আমাকে একটু সময় দেন, আশা করব ভালো করব।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থান থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। আমার যে ভূমিকা আছে, সেটা আমি নিশ্চিত করব। সেখানে কোনো কার্পণ্য হবে না। এটা আমি বলতে পারি।