বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুনামগঞ্জে বন্যার কারণ জানালেন এম এ মান্নান 

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:৫৬ পিএম

আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলার বেশীরভাগ এলাকা। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার লাখ লাখ মানুষ। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুই বছর আগে ২০২২ সালে সুনামগঞ্জের মানুষ মুখোমুখী হয়েছিল শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায়। দুই বছর পর ঠিক একইসময়ে আরেকটি ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখী তারা। 

সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ও দেখা দিয়েছে বন্যা। এম এ মান্নান যখন পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তখন হাওড়ে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। অনেকেই বলে থাকেন সে সময়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবতা মেনে হয়নি। যার মাশুল দিতে হচ্ছে এখন হাওড় অঞ্চলের মানুষকে। 
কেন বারবার বন্যা দেখা দিচ্ছে এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে সাবেই এই মন্ত্রী তুলে ধরেছেন তার দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পাশাপাশি তিনি কিছু সুপারিশ ও তুলে ধরেছেন।  এম এ মান্নান বলেন, একসঙ্গে হঠাৎ ভারত ও আমাদের অংশে বৃষ্টি হলে যেহেতু আমরা নিম্নাঞ্চলে তাই বন্যায় আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমাদের নদী নালা  খনন করে তার ক্যাপাসিটি বাড়ানো আশু কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নদী নালা খাল ভরাটের কাজ হচ্ছে না যা দুঃখজনক। আমরা হাওড় এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন কাজ করেছি, সড়ক নির্মান করেছি এটা কতটা বৈজ্ঞানিক উপায়ে হয়েছে এবং এর ফলে পানির প্রবাহে কতটা বাঁধা পাচ্ছে তা নিয়েও ভাবতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড় এলাকায় নতুন করে বড় সড়ক নির্মাণ না করার। 

বন্যা প্রতিরোধে কিছু পরামর্শও দেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি মনে করি নতুন করে এসব এলাকায় যত রাস্তাঘাট নির্মাণ করব সেখানে প্রচুর কালভার্ট রাখতে হবে। হাওড় এলাকায় বড় সড়ক নির্মাণ না করার যে সিদ্ধান্ত সরকার প্রধান নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দুটিকে খুব জরুরি ভিত্তিতে খনন করতে হবে। প্রাকৃতিক কারণে যে বন্যা হয় তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না কিন্তু আমাদের তৎপর হতে হবে মানবসৃষ্ট কারণে যেন বন্যা না হয়। 

ইটনা-মিঠামইনে যে বড় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে সুনামগঞ্জের চলমান বন্যার জন্য তাকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ মান্নান বলেন, আমি এভাবে সরলীকরণ করতে রাজি নই। সুনামগঞ্জ থেকে মিঠামইনের দূরত্ব কিন্তু অনেক দূর। বন্যার পানি এখান থেকে মিঠামইন পর্যন্ত যেতে হলেও কিন্তু ২ দিন লেগে যেতে পারে। ফলে না বুঝেই এটা বলা ঠিক হবে না। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হাওড় এলাকায় উঁচু রাস্তা নির্মাণ করলে পানির প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এখন সেটা সুনামগঞ্জেই হোক কিংবা মিঠামইনে হোক। 

এম এ মান্নান বলেন, হাওর এলাকার উন্নয়ন হবে, তবে সেটা হাওরের পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। আমরা এমন কোনো প্রকল্প নেব না, যেটাতে হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখে। প্রধানমন্ত্রীও হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন প্রকল্পের বিরুদ্ধে। আমি যখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ছিলাম একনেকে এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন হাওড় এলাকায় বড় সড়ক নির্মাণ না করতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত