জিতেও অস্বস্তিতে স্বাধীনতাপন্থিরা

তাইওয়ানের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করেছেন স্বাধীনতাপন্থি ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) নেতা লাই চিং-তে। কিন্তু জয়লাভের পরও তার জন্য আগামীর পথ চলা সহজ হবে না। কারণ তার দল আইনসভায় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘চীনপন্থি’ বলে পরিচিত দল কুওমিনতাং পার্টিকে (কেএমটি) হারিয়ে স্বাধীনতাপন্থি ডিপিপির জয়ের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির ওপর বেইজিংয়ের চাপ প্রশমিত হবে না। সে ক্ষেত্রে দ্বীপের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে চীন। আবার নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে চীনপন্থি ও মধ্যপন্থিদের সঙ্গে আপস করা ছাড়া উপায় থাকবে না ক্ষমতাসীনদের।

গত শনিবার নির্বাচনে আইনসভার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ডিপিপি। এ নিয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর বলছে, ডিপিপি তাইওয়ানের মূল ধারার জনমতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি।

ডিপিপির সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল লিন ফেই-ফ্যান বলেন, আগামী চার বছর চীনসংক্রান্ত বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে গিয়ে নতুন সরকার বেশ চাপের মধ্যে থাকবে, যা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিরোধী আইনপ্রণেতারা একজোট হয়ে চীনের সঙ্গে বিতর্কিত পরিষেবা বাণিজ্য চুক্তি আবারও চালু করতে চাপ দিতে পারে। এক দশক আগে গণবিক্ষোভের কারণে ওই চুক্তি স্থগিত করতে হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার এবং আইনসভায় একটি চাপের ক্ষেত্র হতে পারে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর।’  

চীন-তাইওয়নের মধ্যে স্থগিত হওয়া বাণিজ্যচুক্তি আবারও চালুর বিষয় নিয়ে ডিপিপির এই নেতার দুশ্চিন্তার কারণ হলো, প্রধান দুই বিরোধী দল কেএমটি এবং তাইওয়ান পিপলস পার্টি (টিপিপি) নির্বাচনী প্রচারণায় ওই নিয়ম আবারও চালুর পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি, দুই দল একসঙ্গে কাজ করবে।

গত শনিবার ভোটের ফল প্রকাশের পর টিপিপি চেয়ারম্যান কো ওয়েন-জে বলেছেন, তারা আগামী দিনে ‘গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

আবার প্রধান বিরোধী দল কেএমটির পরাজিত প্রার্থী হু ইউ-ইহ এখনো পরিষ্কার করে বলেননি, তিনি টিপিপির সঙ্গে কাজ করতে জোট বাঁধবেন। তবে তার দল ভোটের আগে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে একক প্রার্থী দাঁড় করাতে আলোচনা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।