কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় মানুষ সাড়া দেয়নি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি যতবার নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি। এ নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন করতে গিয়ে তারা ট্রেনে আগুন দিয়ে মা-সন্তানকে পুড়িয়ে মেরেছে। এ দৃশ্য কোনো মানুষ সহ্য করতে পারে না। যে কারণে তারা যতই চিৎকার করুক, তাদের কথায় জনগণ সাড়া দেয়নি। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। যারা এ ধরনের কাজগুলো করেছে, তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে এনে বিচার করব।’ গতকাল রবিবার কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ কিন্তু তার ভোট চুরি হলে সে ঠিকই ধরতে পারে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হলো। ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়। ভোট চুরির অপরাধে নাকে খত দিয়ে খালেদা জিয়ার বিদায় নিয়েছে। তারা এখন আন্দোলন করে গণতন্ত্রের জন্য। যারা গণতন্ত্রে “গ”ও বোঝে না। তারা গণতন্ত্র বানান ও করতে পারবে না। তাদের আন্দোলন হলো মানুষ পুড়িয়ে মারা। তারা জানে জ¦ালাও-পোড়াও। জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা। বাসে আগুন, গাড়িতে আগুন, রেলে আগুন, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে, যা করেছে এখন আবার তা শুরু করেছে। এ নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন করতে গিয়ে ট্রেনে আগুন দিয়ে মা-সন্তানকে পুড়িয়ে মেরেছে। এ দৃশ্য কোনো মানুষ সহ্য করতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘যে কারণে তারা যতই চিৎকার করুক তাদের কথায় জনগণ সাড়া দেয়নি। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে এনে তাদের বিচার করব। ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর যারা হুমুকদাতা, যারা জ¦ালাও-পোড়াও করার জন্য হুকুম দিয়েছে, তাদেরও আমরা গ্রেপ্তার করছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা বা এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস না পায়।’

সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা জানেন ষড়যন্ত্র চক্রান্ত কখনো শেষ হয় না। এ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কোটালীপাড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শক্ত একটা ঘাঁটি আছে বলেই আমি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারি। সেই শক্তি আপনারা দিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার মানুষ আমার বড় শক্তি, বাংলাদেশের মানুষ আমার বড় শক্তি। আগামীতেও বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনাভাইরাসের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আবার হামলা শুরু হয়েছে। এজন্য সামনে আরও দুর্দিন আসতে পারে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। আমাদের মানুষ আছে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সঙ্গে সঙ্গে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করতে হবে। আমাদের খাদ্য আমাদের উৎপাদন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশের কোনো উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে যখন আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে। ’৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠন করে মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করি। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করি। এরপর ২০০১ আসতে পারিনি। সেটাও একটা চক্রান্ত ছিল। তখন বিএনপির দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, মানিলন্ডারিং, গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলার কারণে জনগণ তাদের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের দুঃশাসনের কারণে ইমার্জেন্সি আসে। ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব ষড়যন্ত্র ভেদ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সবাই আমরা একসঙ্গে কাজ করে এই বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, স্মার্ট বাংলাদেশ করব ইনশাআল্লাহ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের জয় হয়েছে। এ জয় গণতন্ত্রের জয়, এ জয় বাংলাদেশের জনগণের জয়। কাজেই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’